
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেছেন, “সাদাপাথর শুধু লুট হয়নি, হরিলুট হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তারা যত বড় দলের কিংবা প্রশাসনেরই হোক না কেন—কেউই ছাড় পাবে না।”
শুক্রবার সকালে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে এ ধরনের ভয়াবহ লুটপাট দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সচিব জানান, সাদাপাথরসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ প্যাকেজ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাদাপাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার নজরদারি থাকবে। অবৈধ উত্তোলন রোধে স্থায়ী নজরদারিও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন।
গত ২০ আগস্ট সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পাথর লুটের ঘটনায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ পাঁচ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারই অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে যান কমিটির সদস্যরা।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন স্পট ও রেলওয়ে বাংকার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন হয়েছে। এতে পরিবেশ ও পর্যটন স্থানের নান্দনিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকার তদন্তে নামে।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর নয় সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে সিলেট সমন্বিত কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে ৫২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে বিএনপির ২০ জন, আওয়ামী লীগের ৭ জন, জামায়াত ও এনসিপির দু’জন করে নেতাসহ মোট ৪২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কোম্পানীগঞ্জের বিদায়ী চার ইউএনও, পুলিশ সুপার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও বিজিবির দায়িত্বে অবহেলার তথ্যও উঠে আসে ওই প্রতিবেদনে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :