নাটোরের বনপাড়ায় শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:৩৮ অপরাহ্ন /
নাটোরের বনপাড়ায় শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ

নাটোরের বড়াইগ্রাম ও বনপাড়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংগঠনের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সুদীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বড়াইগ্রাম উপজেলা বাস–ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ট্যাংক–লরি–কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে।

এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে বড়াইগ্রাম উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মুন্নাফ খান ও পৌর শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক জালালের নাম উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। তারা জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে দুজন আবার সক্রিয় হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শ্রমিক সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পেশায় ট্রাকচালক হওয়া সত্ত্বেও মুন্নাফ ও জালাল জোরপূর্বক বাস শ্রমিক ইউনিয়ন ও লরি–কাভার্ডভ্যান অফিস দখলে নেন। নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে কমিটি গঠন করে অবাধে চাঁদাবাজির অভিযোগও ওঠে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নাটোর থেকে অবৈধ পন্থায় তারা অনুসারীদের লাল কার্ড ও সবুজ কার্ড সংগ্রহ করিয়ে নেন। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ডধারীরা ট্যাংক–লরি ও কাভার্ডভ্যান অফিস এবং সবুজ কার্ডধারীরা বাস–ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা, সেখানে বনপাড়া ও বড়াইগ্রামে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অভিযোগ ওঠে, বৈধ কার্ডধারী শ্রমিকদের বঞ্চিত করে সিন্ডিকেটের লোকজনই সব অফিস পরিচালনা করছে। বঞ্চিত শ্রমিকরা নাটোর জেলা কমিটিকে বহুবার অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। বরং প্রতিবাদ করায় অনেককে নির্যাতন ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক বনপাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের শরণাপন্ন হন। তিনি শ্রমিকদের অভিযোগ শুনে আশ্বস্ত করেন যে, বৈধতা অনুযায়ী যার প্রাপ্যতা রয়েছে তাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সরকার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনিও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

You cannot copy content of this page