শার্শায় নিখোঁজ ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারঃ তিনজন আটক


বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ৪:২৬ অপরাহ্ন /
শার্শায় নিখোঁজ ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারঃ  তিনজন আটক

যশোরের শার্শায় মো. আব্দুল্লাহ (২৬) নামে এক ভ্যানচালককে হত্যার পর মরদেহ গুম করা হয়েছে। নিখোঁজের চার দিন পর তাঁর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে শার্শা থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত মো. আব্দুল্লাহ শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী মোড়লের ছেলে। গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি।

পুলিশ জানায়, ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ১১টার দিকে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল্লাহ। এরপর তিনি আর ফেরেননি। পরদিন শনিবার তার পিতা ইউনুস আলী শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫০৫, তারিখ ১১/১০/২০২৫) করেন।

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ তৎপরতায় ঝিকরগাছা থানা এলাকা থেকে ভিকটিমের ভ্যানটি উদ্ধার করে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে আশানুর রহমান ওরফে আশা (২৮), মুকুল হোসেন (৩৮) এবং সাগর হোসেন নামের তিনজনকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ৬টার দিকে আটককৃত আশানুর রহমানের বাড়ির পাশে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবলু সরদারের একটি পরিত্যক্ত একতলা বাড়ির টিনের বক্সের ভেতর থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শার্শা থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত আবদুল্লাহর পিতা ইউনুস আলী মোড়ল বলেন, আমার ছেলেটা প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিল। আমরা ভাবিনি, এভাবে তাকে খুন করবে কেউ। লাশ পচে গলে গেছে, মুখটাও চেনা যাচ্ছিল না। আমরা তার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নিহতের স্ত্রী আছিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে কারও কোনো ক্ষতি করত না। এখন আমার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে আমি কিভাবে বাঁচব?

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ালে সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনলে তারা তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, ভিকটিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা ও ডিবি পুলিশ একযোগে কাজ শুরু করি। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাজী নাজীব হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

You cannot copy content of this page