
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে দাদিকে হত্যা করেছেন নাতনি ফাউজিয়া খাতুন (১৯)। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
ফাউজিয়া আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম (সুমন)-এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার।
মামলার তদন্ত ও ফাউজিয়ার জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে বনপাড়া পৌরসভার সর্দারপাড়ার নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মমতাজ বেগম (৭৫)। তিনি প্রয়াত প্রকৌশলী এস. এম. শফিউল্লাহর স্ত্রী। পরদিন নিহতের ছেলে জাকির হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওসি গোলাম সারওয়ার জানান, ঘটনার রাতে বাড়ির প্রহরী এশার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে ফাউজিয়া তার দাদির শোবার ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে স্বামীকে নিয়ে রাত কাটানোর প্রস্তাব দিলে মমতাজ বেগম আপত্তি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফাউজিয়া হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে দাদির মুখে আঘাত করেন। এতে মমতাজ বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ফাউজিয়া তার শরীর থেকে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে পালিয়ে যান।
এরপর নাটোর শহরে গিয়ে ফাউজিয়া ওই স্বর্ণালংকার বিক্রি করে নতুন জামাকাপড় কেনেন এবং ঢাকায় পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঘটনার সময় ফাউজিয়া, যিনি নিহতের ভাশুরের নাতনি (শাহিনুজ্জামানের মেয়ে), বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর পুলিশ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করে। রবিবার রাতেই নাটোর শহরের হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফাউজিয়া ও তার স্বামী মিনারুলকে আটক করা হয়।
চার দিনের রিমান্ডে ফাউজিয়া দাদিকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফাউজিয়াকে আদালতে হাজির করলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
পরে নাটোর জেলা পুলিশ সুপার অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে বনপাড়া এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাদিহত্যাকারী নাতনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :