ঢাকা, মঙ্গলবার - ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত সংবাদ

মদুনাঘাট বাজারে করোনাকে কেয়ারই করেনা

[print_link]

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে হাটহাজারি প্রশাসন।  জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখতে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে  বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। হাটহাজারি থানা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন সবশেষটুকু দিয়ে যাচ্ছেন জনসাধারণকে নিরাপদ রাখতে এবং সর্বোপরি সমগ্র   হাটহাজারিকে করোনামুক্ত রাখতে।
কিন্তু কে শুনে কার কথা !! চলছে এখন সাধারণ ছুটি। পাশাপাশি কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁচা বাজার সকাল ১১টা পর্যন্ত চলবে হাটহাজারি প্রশাসনের নির্দেশনা। এছাড়া বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লায় অবস্থিত নিত্যপণ্যের দোকানগুলো প্রতিদিন আংশিক পরিসরে খোলা রাখছেন।
আজ বুধবার (২২এপ্রিল ২০২০ ) জেলার প্রতিদিনের মদুনাঘাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপছে  পড়া ভিড়। করোনার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৩ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার কথা, তাও মানছেন না কেউ। গা ঘেঁষা-ঘেঁষি করে চলছে সদাইপাতি।
কথা হয় ক্রেতা মোহাম্মদ মুনছুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনার কারণে সারাক্ষণ বাসায় থাকি। বাসায় বাজার সব শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে আসলাম। এসে দেখি অনেক লোক।
সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজারে আসলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা অসম্ভব। কারণ এখানে নানা ধরনের লোক আসে বাজার করতে। তবে সবাই যদি মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরে আসে তাহলে কিছুটা ঝুঁকি কম থাকে।
প্রচুরসংখ্যক ক্রেতারা কেনাকাটা করতে ব্যস্ত। কয়েকজন বিক্রেতা জানালেন, যারা বাজার করতে আসে, আমরা সবাইকে বলি যেন তারা একটু ফাঁকা হয়ে দাঁড়ায়। জনগণ যদি এই দূরত্ব না মেনে চলে তাহলে আমরা কি করতে পারি!!
বাজারও খুলেছে অল্প পরিসরে সকল ধরনের দোকান। সামাজিক দুরত্ব না মানলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়।
থানা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মুঠোফোনে সিএনএন ক্রাইম নিউজকে এক প্রকার ক্ষোভ জানিয়েছেন। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত যে পরিশ্রম সবই পন্ডশ্রম।
তিনি আরও জানান, মানুষকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছেনা, আটকানো যাচ্ছেনা।
প্রশ্ন এখন কবে বুঝবে জনগণ ? সচেতন কবে হবে ? যদি এমন হয় সচেতন হতে আমরা বড্ড দেরি করে ফেলি !!
এ প্রসঙ্গে মার্দাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ জানান, চেষ্টার কোনও ক্রুটি নেই। আমার এ মদুনাঘাট বাজারে রাউজান থানার একটা অংশ প্রতিনিয়ত বাজার সদাই করেন যা বেশীরভাগ প্রবাসীর পরিবার।
আমি খুবই আতংকিত এবং শংকিত। কোন সংক্রমনের সম্মুখীন না হতে হয়। কোন ভাবেই জনসমাগম ঠেকাতে পরছিনা বলে জানান তিনি।
মদুনাঘাাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাব্বারুল ইসলাম সিএনএন ক্রাইম নিউজক বলেন, আমরা সব সময় নির্বাহী আদেশ পালন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি এ করোনাকালীন সময়ে মানবিক পুলিশের আচরন যতটুকু হওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটুকু করছি। সর্বাত্নক চেষ্টা করছি আমার দায়িত্বের সীমানাটুকু নিরাপদ রাখতে।
তিনি আরও বলেন, আমি মদুনাঘাট তদন্ত কেন্দ্রে নতুন যোগদান করেছি। পায়ে হেঁটে সবসময় জনগনের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটা সুচারু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সদা সর্বদা প্রস্তুত। আমার আহ্বান থাকবে যে কোন সমস্যায় সরাসরি আসুন। কথা দিলাম আমার শেষটা দিয়ে চেষ্টা সত্যিকারের সেবক হতে।
সাধারণ মানুষের দাবী প্রশাসন আরও কঠোর না হলে হাটহাজারিকে যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে তা কতটুকু সফল হবে? আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার মাধ্যমে জনগনের চালাচল নিয়ন্ত্রণ করা হোক। কিছু সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন এ মরণফাদেঁর বাজারটি কার স্বার্থে?

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ