ঢাকা, রবিবার - ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত সংবাদ

সুরক্ষা উপকরণ ছাড়াই মাঠে আছেন পুলিশ

[print_link]

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এর বাইরে বর্তমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে তাদের। তবে পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) ছাড়াই এসব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় দুই লাখ সদস্যকে।

সারাবিশ্বে আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এ ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের কয়েকটি এলাকা শাটডাউনসহ সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের রুটিনওয়ার্ক করে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। হাত ধোয়া ছাড়া তাদের সুরক্ষায় নেয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ২ হাজার ১৭৯। এর মধ্যে ডিউটিরত রয়েছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫২ জন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এসব পুলিশ সদস্যকে বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায়ও দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় এরই মধ্যে দেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের কার্যক্রম সীমিত করে এনেছে। তবে জরুরি সেবা বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বাড়তি দায়িত্বও। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় বিদেশফেরত যাত্রীদের হাতে অমোচনীয় কালি দিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য সিল দেয়ার দায়িত্বটি পালন করছেন পুলিশ সদস্যরাই। পাশাপাশি এসব ব্যক্তির গতিবিধি নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে গিয়ে হামলার শিকারও হতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের।

আরও পড়ুন  করোনায় বিনামূল্যে অক্সিজেন দিচ্ছেন আবুল খায়ের গ্রুপ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীর কাছে যেতে হলে প্রয়োজনীয় পিপিই এখনো পাননি পুলিশ সদস্যরা।

যদিও করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এরই মধ্যে পুলিশের সব স্থাপনায় দর্শনার্থী প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ লাইনসসহ প্রতিটি ইউনিট নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে সদর দপ্তর থেকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ সদস্যদের জন্য সীমিত আকারে পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। আরো বেশিসংখ্যক পিপিই সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনা সদস্য নিহত

এদিকে দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর পুলিশের সব ইউনিটে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় করোনাভাইরাস সম্পর্কে আতঙ্কিত না হয়ে এ ভাইরাসের যাতে বিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন হতে সব পুলিশ ইউনিটে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্য বার্তায় বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি পুলিশের রয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য জ্বর, কাশিসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে স্থানীয় পুলিশ হাসপাতাল বা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এদিকে, বিমানবন্দরের পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে (ইমিগ্রেশন পুলিশ) সম্প্রতি কয়েক হাজার বিদেশ ফেরতদের যে তালিকা তৈরি করে সারাদেশে পাঠানো হয়েছে তা তদারকির মূল কাজ করছে মাঠ পুলিশ। বিদেশফেরতরা বাড়ি আছেন কিনা, হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কিনা, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশের পারসোনাল প্রটেক্টটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিআই) বলতে কিছুই নেই। ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছে সারাদেশের পুলিশ।

আরও পড়ুন  করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি

প্রায় একই অবস্থা থানা ব্যারাক ও ট্রাফিক পুলিশের। বনানী থানার এসআই এনামুল হক বলেন, যে কোনো ঘটনায় কেউ না গেলেও পুলিশকে বাধ্যতামূলক যেতে হয়। সেক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের পুলিশের নিরাপত্তা নেই। আমরা নিরাপদে কাজ করতে চাই। আমাদের জন্য সে সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হোক। মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমরা নিজস্ব উদ্যোগে সবার জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি। করোনা প্রতিরোধে সদর দপ্তর থেকে অন্যান্য কিছুর ব্যবস্থা করে দিলে আরো ভালো হবে।

এদিকে, সারাদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করলেও একটি মাস্ক ব্যবহার করা ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। কয়েকটি ট্রাফিক বক্সে মাস্ক ও গ্লাভস পৌঁছালেও জুটছে না সবার কপালে। ফলে বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে হাত ধোয়া ও সচেতন থাকার চেষ্টা করছেন তারা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নির্দেশনায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সব বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালকে কোয়ারেন্টিন সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

সিএনএন/ এ হক।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ