ঢাকা, সোমবার - ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত সংবাদ

করোনায় বাংলা নিরাপদ হ্যাঁ নিরাপদ

[print_link]

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

করোনা নিয়ে প্যানিক ছড়ানো বা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। করোনা ছড়িয়ে কিন্তু সরকার প্রকাশ করছে না বলে অনেকে সন্দেহ করছেন। বিষয়টি উড়িয়ে দেয়ার মতো না তবে এনিয়ে যথেষ্ট সমীকরন আছে দেশ ভেদে। সরকারি তথ্য মতে, তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন ইতালি থেকে এসেছে। বাকি একজন তাদের পরিবারের সদস্য। তবে দুইজন ইতিমধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন। এর বাইরে এখনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। সরকারি এই তথ্য ও বাস্তবতা একটু বোঝার প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কী? বাস্তবতা আসলে কী? আসুন একটু যাচাই করি।

করোনায় বিপর্যস্ত দেশ কিংবা এলাকার তাপমাত্রা নিয়ে একটু আলোকপাত করা দরকার।
১. করোনার শুরু থেকে চীনের উহানের তামপাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রির নিচে ও কাছাকাছি।
২. ইরানে ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি।
৩. দক্ষিণ কোরিয়ায়ও ১০ ডিগ্রির অনেক নিচে।
৪. ইতালিতে ১৫ ডিগ্রির নিচে।
অর্থাৎ মোটামুটি ১৫ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা আছে এমন ক্ষেত্রে করোনা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

করোনা কত তাপমাত্রা নিরাপদ?
এ পর্যন্ত প্রায় সব গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি একমত যে, তাপমাত্র ২১-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে করোনা ভাইরাস টিকতে পারে না।

১. হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. প্রফেসর জন নিকোলস বলেছেন, সূর্যের আলো, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় করোনা টিকতে পারে না। সূর্যের আলো ভাইরাস অর্ধেক ক্ষমতা শেষ করে দেয়। বাকি অর্ধেক ২ থেকে ২০ মিনিট টিকে থাকে।

আরও পড়ুন  করোনা: আরব আমিরাতে একদিনে আক্রান্ত ২৫১৫

২. জার্মান সেন্টার ফর এক্সপেরিমেন্টাল এন্ড ক্লিনিক্যাল ইনফেকশন রিসার্স সেন্টারের গবেষক থমাস পিচম্যান বলেছেন, সূর্যের তাপে ভাইরাসটি টিকতে পারে না।

৩. জার্মানির জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনের প্রকাশিত রিসার্সে বলা হয়েছে, ভাইরাসটি ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৫ দিন বাঁচতে পারে। সর্বোচ্চ ২৫ ডি.সে. এ কয়েক দিনের বেশি বাঁচে না।

বাংলাদেশ কেন মুক্ত?
আসুন দেখে নেই চলতি মাসের তাপমাত্র; ১ মার্চ থেকে আজ ১২ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের তাপমাত্র যথাক্রমে ৩২, ৩১, ৩০, ৩০, ৩০, ৩১, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আক্রান্ত দেশগুলোর তুলনায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের তাপমাত্রা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা করোনা ধ্বংসে তাপমাত্রার যে সীমা বলছেন তার থেকে বাংলাদেশের তাপমাত্রা অনেক উপরে। সুতরাং বাংলাদেশে করোনা ছড়ানোর সুযোগ আপাতত নেই। প্রাকৃতিক এই প্রতিষেধকে ঢেকে আছে আমাদের সোনার বাংলা। সৃষ্টি কর্তার এটি অশেষ কৃপা। ‘করোনা ছড়িয়ে কিন্তু সরকার প্রকাশ করছে’ বক্তব্যটি নিছক গুজব।

অনেকেই মনে করেন করোনা আক্রান্ত হওয়া মানে মৃত্যু নিশ্চিত। দেখা যায়, আক্রান্ত ৮১ শতাংশের ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ সর্দি-কাশির মতো যা ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সেরে যায়। ১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা জটিল হতে পারে। আর মাত্র ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি গুরুতর প্রভাব ফেলে। এই ৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বয়স্ক, অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত, হার্ট বা কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রয়েছে এমন ব্যক্তিরা। অর্থাৎ, করোনা হলেই জীবন শেষ, এমন ধারণা সঠিক নয়।

আরও পড়ুন  জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত

চায়নাতে ৮০ হাজারের মতো মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সেখানে মাত্র ৪১৯ শিশু আক্রান্ত হয় এবং তাদের সবার ক্ষেত্রে এটি খুব সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের মতো। কিশোর বা তরুণদেরও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই। এখন পর্যন্ত একজনও তরুণ বা কিশোর (৯ থেকে ৩৯ বছর) এতে আক্রান্ত হয়নি।

করোনা ভাইরাসের সঙ্গে তাপমাত্রার একটা সম্পর্ক আছেই। যেসব দেশের তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রির ওপর সেখানে এ রোগ ছড়ায় না। এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন।

২৩ ডিগ্রির ওপরে জীবাণুটি ছড়াতে পারে না। কারণ, এই রোগটি মূলত ছড়ায় সর্দি, কাশির সময় মুখ থেকে যে লালা জাতীয় জিনিস বের হয় তার মাধ্যমে। এই লালা মাটিতে পড়ে, কিংবা কোনো জিনিসে পড়ে। সেটি আরেকজন যখন ধরে এবং তার হাতে লাগে। এরপর সেই হাত যখন মুখে যায় তখন জীবাণু ছড়ায়।

আরও পড়ুন  পিরোজপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ৪ কিশোর

অনেকে বলতে পারে ইরান তো গরমের দেশ। সেখানে কেন করোনা আক্রান্ত হচ্ছে? না, ইরানে এখনো শীত চলছে। সেখানকার তাপমাত্রা এখনো ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির নিচে।

কিন্তু ২৩ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় এই লালা মাটিতে বা অন্য কোথাও পড়লে তাপমাত্রায় কারণে তা শুষে যায়। এবং ২৩-এর বেশি তাপমাত্রায় এটি কয়েক মিনিটের বেশি বাঁচে না। অর্থাৎ, এ বিষয়ে আমরা বলতেই পারি যেসব দেশের তাপমাত্রা ২৩-এর ওপর চলে গেছে অর্থাৎ শীতকাল পার হয়ে বসন্ত বা গ্রীষ্ম চলে এসেছে সেখানে এটি অত গুরুতর কিছু না

সুতরাং প্যানিক ছড়ানো বা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। যদি এখানে করোনার রোগী বাইরে থেকে ভাইরাস নিয়ে আসেও আর তাপমাত্রা এমনই থাকে তাহলে ভাইরাস প্রাকৃতিকভাবে নির্মূল হয়ে যাবে। তবে নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পরিবার-পরিজন সবাই সুস্থ্য থাকুন। সচেতন হোন, ভালো থাকুন। পোস্টটি শেয়ার করে আতঙ্ক ও গুজব দূর করুন।

তথ্য সূত্র:
১. আল-জাজিরা।
২. জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনার।
৩. দ্য ওয়েদার চ্যানেল।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ