ঢাকা, মঙ্গলবার - ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত সংবাদ

আ.লীগের শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে

[print_link]

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতার পরেই আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতি-নির্ধারক এতথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ভেতরের আগাছা আবর্জনা পরিস্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্যাসিনো, জুয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এত দিন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ধীরে ধীরে তা মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তর ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তৃত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মন্ত্রী, সাংসদ ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও অভিযানের আওতায় আনা হচ্ছে।আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। তার এই নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা কাজ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পর্যায়ের দেড়হাজার নেতাকর্মীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই তালিকা প্রণয়ন করেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন  একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সরকার বদ্ধপরিকর: ব্যারিস্টার আনিস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজস্ব টিমের মাধ্যমেও এই তালিকা যাচাই-বাছাই করেছেন। কারা কোন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সে ব্যাপারে তার নিজস্ব টিম খোঁজখবর নিয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী যারা দলের পরিচয় ব্যবহার করে সরকারের বদনাম করছে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে- তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য যে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নাম ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন অপকর্ম করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করেছিলেন। এই শুদ্ধি ছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা পরিচালিত শুদ্ধি অভিযান। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মুজিববর্ষের পরপরই আগামী এপ্রিল থেকে শুদ্ধি অভিযানের ধরন পাল্টে যাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে অপকর্মকারী, দোষী, সুবিধা ভোগীদের জায়গা হবে না। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই অভিযান চালাচ্ছে যারা অপরাধ করছে তাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলের পক্ষ থেকেও যারা দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন রকম অপকর্ম করছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাজ্যের পথে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার আদর্শের এই দলকে আমরা কখনো সুবিধাবাদী এবং মতলববাজদের হাতে জিম্মি হতে দেবো না।জানা গেছে যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদকদেরকে তাদের স্ব-স্ব বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কারা টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত তাদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, শেখ হাসিনার কাছে যে তালিকা রয়েছে এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের তালিকা মিলিয়ে দেখবেন। মেলানোর পর যাদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, যারা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে কলুষিত করার জন্য দলে ভিড়েছে ,তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম-৮ আসনে নৌকার মাঝি মোসলেম উদ্দিন

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। কাজেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠনতান্ত্রিক রীতি-নীতি মেনেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। অবস্থা বুঝে তাদের দল থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হবে। তারপর যদি দেখা যায় যে তাদের জবাবগুলো যথাযথ হয়নি, সেক্ষেত্রে তাদেরকে স্থায়ী বহিস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।তবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, শুদ্ধি অভিযান মানে এই নয় যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। তিনি বলেছেন এই দুই প্রক্রিয়াই পাশাপাশি চলবে। যারা আইনের বরখেলাপ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যেমন অভিযান চলবে, তেমনি যারা দলের শৃঙ্খলা, দলীয় রীতি-নীতি ভঙ্গ করেছে তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ