ঢাকা, রবিবার - ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত সংবাদ

হঠাৎ বিত্তশালী আ.লীগ নেতাদের তালিকা হস্তান্তর

[print_link]

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

হঠাৎ করে ফুলেফেঁপে উঠা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশাল একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছেন একটি গোয়েন্দা সংস্থা। দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে বিত্তশালী হয়ে ওঠা এসব নেতাদের বৈধ আয়ের উৎস বলতে তেমন কিছু নেই। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তালিকা দেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বিস্মিত। বিস্ময়ে প্রশ্ন করেছেন, একটা মানুষের বেঁচে থাকতে কত টাকা লাগে? এরা কি টাকা কবরে নিয়ে যাবে? কেন তাঁরা এসব করে? এক সাথে  প্রধানমন্ত্রী এসব অবৈধ অর্থবিত্তশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এদের ব্যাপারে কোন প্রকার করুণা বা মার্জনা না দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।জানা গেছে, শুধুমাত্র তৃণমূল কিংবা অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই নয়, অনেক বড় বড় কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদ এবং অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার তথ্য এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

আরও পড়ুন  নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়লেন ৬মন্ত্রী

আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়া একজন নেতা, যিনি ঋণখেলাপিও বটে। তাঁর বিপুল পরিমাণ বিত্তসম্পদের খবর পাওয়া গেছে। অথচ তিনি রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু করেন না। তাঁর স্ত্রী সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। অথচ তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করেন, কিভাবে? এই প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁরও কোন বৈধ আয় নেই। কিন্তু তিনি বিলাসবহুল অফিস পরিচালনা করেন। তাঁর বিত্তসম্পদ প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ে। কিন্তু ২০০৮-এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ঐ নেতা যেমন আলোচিত ছিলেন না, তেমনি তার অর্থবিত্তও তেমন কিছু ছিল না। এখন তার অফিস কক্ষে গেলেই মানুষের পিলে চমকে ওঠার অবস্থা হয়।

আরও পড়ুন  সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে বহুমাত্রিক টেনশন

আওয়ামী লীগের আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা। যিনি তেমন কিছুই করেন না। তবে অনুসন্ধানে বাংলাদেশের বাইরে অন্তত তিনটি দেশে তার বাড়ির খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেই ধনাঢ্য হয়েছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই মন্ত্রী হওয়ার পরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পুত্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং তিনি সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানি করেছেন, মন্ত্রণালয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

এরকম একটি ঘটনা নয়, বহু ঘটনাই রয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, যারা দুর্বত্তায়ন করছেন, যারা হঠাৎ করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন, যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন- তাঁদের সংখ্যা খুবই কম। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা এখনো রাজনীতিকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন। আদর্শের চর্চা করেন এবং রাজনীতিকে মানুষের সেবা করার মাধ্যম হিসেবে মনে করেন। এধরনের আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতার সংখ্যাই বেশি।একারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো কঠোর অবস্থানে চলে যাচ্ছেন। যেসমস্ত প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে বিত্তশালী হবার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা এবং তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় তাদের সম্পত্তি বৈধ নয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণে কোন কার্পণ্য না করা হয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  মসলার বাজার যেন লাগামহীন ঘোড়া

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি বারবার করে বলছেন যে, রাজনীতি একটি পবিত্র জিনিস, রাজনীতি মানুষের সেবা করার বিষয়। রাজনীতিকে কেউ যদি বিত্তশালী হবার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ রাজনীতি কলুষিত হলে, সবথেকে বেশি কলুষিত হবে আওয়ামী লীগ।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ