
এক্সপ্রেস আলমডাঙ্গা
আলমডাঙ্গার আসাননগরে পরকীয়ার জেরে কেন্দ্র করে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামীর পরকীয়ার ঘটনায় তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে স্ত্রীকে ঘরের ভেতর মারধর করতে থাকেন স্বামী রবিউল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকে পরিবারের সবার সামনেই রবিউল তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী পলি খাতুনকে মারপিট করেন। তবে রবিউলের পরিবার জানিয়েছে, মারপিট ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পলি বিষের বোতল নিয়ে মুখে ঢেলে দেয়। বিষের প্রসঙ্গ আমলে না নিয়ে হত্যা দাবি করে পলির পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে লাশ বাড়িতে ফেলে রেখেই রবিউলের পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। নিহত পলি খাতুন আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ট্রাক চালক রবিউল ইসলামের স্ত্রী ও হারদী ইউনিয়নের গোপালদিয়াড় গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের মেয়ে।
গ্রাম ও পুলিশসুত্রে জানা গেছে, রবিউল ও পলি দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। রবিউল প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এমনকি পলির সামনেও কথা বলতেন। এ নিয়ে রবিউলের সাথে পলির প্রতিনিয়ত ঝগড়াঝাটি চলতে থাকে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকেও তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রবিউল পলিকে ঘরের ভেতর মারপিট করতে শুরু করে। ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পলি কান্নাকাটি করলে প্রতিবেশীরাও এগিয়ে আসে। তখনই রবিউলের পিতা বলতে থাকেন পলি বিষ খেয়েছে। তাকে ডাক্তার শহিদুলের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার আগেই পলির মৃত্যু হয় বলে জানান ডাক্তার শহিদুল ইসলাম। সংবাদ পেয়ে গোপালদিয়াড় গ্রাম থেকে ছুটে আসেন পলির বাপ-ভাইয়েরা। তারা হত্যা করা হয়েছে দাবি তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই রবিউল ও তার পিতা-মাতা ও ভাইসহ পরিবারের সবাই ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ পলির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই থানায় নিয়েছে।
পলির বাবা ফরিদ উদ্দিন জানান, তার ৭ মেয়ে। পলি খাতুন নোয়া মেয়ে। ১০ বছর আগে রবিউল ইসলামের সাথে পলির বিয়ে হয়। এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পলিকে তার স্বামী বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্যাতন করে আসছিলো। মাঝে মাঝে পলি মার খেয়ে আমার বাড়িতে না হয় তার বোনদের বাড়িতে চলে যেত। আবার আমরা তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে পাঠাতাম। এবার পলিকে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে মেরে ফেলেছে।
কালিদাসপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নজরুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়ার পর রবিউলের পিতার কাছে খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। রবিউলের পিতা মারধরের কথা স্বীকার করে বিষ খাওয়ার কথাও বলেছেন। তবে তিনি বিষের কোন গন্ধ পাননি বলে জানান।
রবিউল ও তার পরিবারের লোকজন কখন পালিয়ে যান জানতে চাইলে তিনি জানান, মেরে ফেলার ঘটনাটি জোরেশোরে সামনে এলে তারা সবাই পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট এলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ঘটনার পর থেকেই পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :