ফটিকছড়িতে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ মানববন্ধন


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৫, ২:১০ অপরাহ্ন /
ফটিকছড়িতে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ মানববন্ধন

ফটিকছড়িতে উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানীর অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (২৩ আগষ্ট) উপজেলার জিলতলি এলাকায় এই মানববন্ধনে স্থানীয় জনতা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সড়কের ধারে বিশাল মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বনবিভাগের ওই জায়গায় প্রতিটি স্থাপনা নির্মাণে আর্থিক লেনদেনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগীতা দেন এসিএফ হারুন। তিনি প্রতিটি স্থাপনার কাজ শুরুর কিছুদিন পর নিজে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে ৫০-৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। অন্যথায় উচ্ছেদসহ নানা রকম মামলার হুমকি দেন। এলাকার গরীব ও ভাসমান লোক এসব সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদে মানববন্ধনের উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সেক্রেটারি মো. আনোয়ার বলেন, ‘পাহাড়ঘেরা উত্তর জনপদের অন্তত অর্ধশত গ্রামে একটি মোবাইল টাওয়ার থাকা সত্ত্বেও, বহুদিন ধরে নেটওয়ার্ক সংকটে ভুগছেন ৭০ হাজার বাসিন্দা। এতে বড় বাঁধা বনবিভাগ। বর্তমান এসিএফ হারুন তাঁর চাহিত ঘুষ না পাওয়ায় বার বার আপত্তি দিচ্ছেন। এতে এলাকার বহু মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে তার অপসারণ চান।

বালুটিলা বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এসিএফের কারণে কেউ শান্তিতে থাকতে পারেন না। প্রতিটি স্থাপনা থেকে তিনি চাঁদা নেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কিছুই বুঝেন না। সরকার পরিবর্তনের পর তার ঘুষের চাহিদা দ্বিগুণহারে বেড়েছে। এজন্য ২৪ এর জুলাই বিপ্লব ঘটেনি। ফলে এলাকার বহু মানুষ কষ্টে অতিষ্ঠ।

মানববন্ধনে আরোও বক্তব্য দেন সমাজসেবক মো. আবুল কাশেম, মো. আবদুল খালেক, মো. আনোয়ারসহ অনেকে। বক্তারা কর্তৃপক্ষের কাছে এমন দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘চাঁদাদাবীর বিষয়টি অবান্তর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা অভিযোগ করছেন তাদের আল্লাহ হেদায়েত দান করুক। তাছাড়া, যেহেতু জায়গাটি বনের সেহেতু সেখানে স্থাপনায় পরিবেশ ছাড়পত্র দরকার। তাদের ইতিবাচক সাঁড়া পেলে বাধা নেই।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে উপজেলার পশ্চিম সোনাই গ্রামে মোবাইল অপারেটর রবি একটি টাওয়ার স্থাপন করে। কিন্তু ২০১৮ সালে স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজি, নিরাপত্তা সংকট ও চুরি-ডাকাতির কারণে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে উপজেলার নয়টিলা, নলখো, সাইবেনিরখিল, ত্রিপুরাপাড়া এবং মিরসরাইয়ের পানুয়া, কালাপানিসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন।

You cannot copy content of this page