মালয়েশিয়ায় জুমার নামাজ না পড়লে ২ বছরের কারাদণ্ড


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২০, ২০২৫, ৩:৩৯ অপরাহ্ন /
মালয়েশিয়ায় জুমার নামাজ না পড়লে ২ বছরের কারাদণ্ড

মালয়েশিয়ার তিরাঙ্গানু রাজ্যে জু্মার নামাজ বাদ দিয়ে উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে মুসলিম পুরুষদের দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬ হাজার টাকা) জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে বলে দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এনডিটিভি বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ক্ষমাতাসিন প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (পিএএস) সোমবার ঘোষণা করেছে, নতুন এ নিয়ম শরিয়াহ ক্রিমিনাল অফেন্স (তাকজির) এনাক্টমেন্ট আইনের আওতায় কার্যকর হবে।

তেরেঙ্গানু রাজ্যের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ খালিল আবদুল হাদি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, এখন থেকে একবার জুমার নামাজ বাদ দিলেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুসারে, তিনি বলেছেন, ‘এটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জুমার নামাজ কেবল ধর্মীয় প্রতীক নয়, বরং মুসলমানদের আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যম।’

এ সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী জুমার নামাজ এড়ানোর শাস্তি পূর্বের তুলনায় আরো কঠোর করা হয়েছে। আগে শুধুমাত্র যারা টানা তিনবার জুমার নামাজ না পড়ত তাদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার টাকা) জরিমানার মুখোমুখি হতে হতো।

মালয়েশিয়ায় দ্বৈত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে—যেখানে সবার জন্য দেওয়ানি আইন প্রযোজ্য, আর দেশের প্রায় ৩৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিমদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে শরিয়াহ আইন কার্যকর হয়।

তবে আইনটি ঘোষণার পরই সমালোচনার মুখে পড়ে। এশিয়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার অ্যাডভোকেটসের পরিচালক ফিল রবার্টসন এ আইনের সমালোচনা করে বলেন, ‘ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার মানে হলো বিশ্বাস না করার কিংবা অংশগ্রহণ না করার স্বাধীনতাও।’

তিনি আরো বলেন, তেরেঙ্গানু কর্তৃপক্ষ এভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আইনটির শাস্তির ধারা বাতিল করার আহ্বান জানান।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এ ধরনের আইন ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।’

 

এর আগে হুদুদ নামে একটি ফৌজদারি আইন প্রবর্তন করেছিল পিএএস, যেখানে চুরির জন্য হাত কেটে ফেলা ও ব্যভিচারের জন্য পাথর ছুড়ে হত্যার মতো শাস্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গত নভেম্বরে জোহর অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ ইসলামিক কর্মকর্তা ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে সব মুসলিম পুরুষকে জুমার নামাজে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত এক ডজনের বেশি শরিয়াহভিত্তিক রাজ্য আইন বাতিল করে দেয় বলে জানায় দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

You cannot copy content of this page