ঢাকার সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কজুড়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে বুধবার (৬ আগস্ট) আশুলিয়ার বাইপাইল, ডিইপিজেডসহ জামগড়া, ইউনিক ও বগাবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল সেতুর পর থেকে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।
সড়কটির ওই অংশে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো গর্ত এক ফুটেরও বেশি প্রশস্ত এবং আধা ফুটের বেশি গভীর। মহাসড়কটিতে গর্তের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সেখানে বালুসহ নিম্নমানের সামগ্রীতে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্যস্ততম সড়কের বিশাল অংশ আটকে কাজ করা হচ্ছে।
এতে বাকি অংশ দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলতে পারছে না। একদিকে মহাসড়কে বড় বড় খানাখন্দ, অন্যদিকে জোড়াতালির সংস্কারকাজে বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত নবীনগরগামী লেনটিতে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কে সংস্কারকাজ করা রুস্তম মিয়া নামের শ্রমিক বলেন, পাশেই বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ঠিকাদারের অফিস। তাদের সাথে কথা বলেন।
আমরা তাদের নির্দেশে যেখানে বেশি গর্ত সেগুলোতে বালু, খোয়া এবং রাবিশ দিয়ে ভরাট করে ইট বিছানোর কাজ করছি।
পাশেই একটি ইটভর্তি ট্রাক সড়কের মাঝে দাঁড়ানো। সড়কটিতে চলাচলকারী যানবাহনকে সরু জায়গা দিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে। সড়কের মাঝে ট্রাক দাঁড় করানোর কারণ জানতে চাইলে চালকের সহকারী আফজাল হোসেন বলেন, সড়কের কাজের জন্য ইট নিয়ে এসেছি। এখন কোথায় ফেলব? লোক না থাকায় চালক গাড়ি রেখে লোক খুঁজতে গেছে।
একই অবস্থা বাইপাইল-আশুলিয়া-টঙ্গী সড়কে। সড়কটির কোথাও কোথাও এমন গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে শুকনো পথেই চলা কঠিন। এর মধ্যে সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ ভরে সড়কটি পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। কোনদিকে গর্ত রয়েছে, তা নির্নয় করতে করতে ধীরগতিতে চলতে হয় যানবাহনকে। একটু ভুল হলেই উল্টে যায় অটোরিকশা, ভ্যান, পিকআপ ও মালবোঝাই ট্রাক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর ও মিরপুর বেড়িবাঁধের সঙ্গে সংযুক্ত টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কটি বছরের প্রায় অধিকাংশ সময়ই নাজুক অবস্থায় থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির কয়েক কিলোমিটার অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় এই পথে চলাচলকারীদের ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী।
ঢাকা জেলা উত্তরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (অ্যাডমিন) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, বাইপাইলে যানজট নিরসনে পুলিশের উপস্থিতি থাকে বেশি। কিন্তু সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা কর্র্তৃপক্ষকে অনেকবার বলেছি। মাঝেমধ্যে জোড়াতালি দেয়, সেগুলো আবার বৃষ্টিতে উঠে যায়।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ বিভাগের নয়ারহাট অফিসের সড়ক উপ-বিভাগের প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
এদিকে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনিও তা না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :