শেখ মুজিবের পূজারী খাগড়াছড়ি কৃষি কর্মকর্তা বাছিরুল আলম বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২, ২০২৫, ৬:০৯ পূর্বাহ্ন /
শেখ মুজিবের পূজারী খাগড়াছড়ি কৃষি কর্মকর্তা বাছিরুল আলম বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি

*সবজি বীজ বিতরণে ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ 

*পেঁয়াজ ও অড়হর বীজ বিতরণেও নয়ছয়

*৩ দিনের ট্যুর ১ দিনে শেষ করে অর্থ আত্মসাৎ

*৪০ লাখ টাকার কৃষিযন্ত্র গায়েব

*ঢাকায় জমি, বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পেতাত্মারা এখনও লোভনীয় পদে অধিষ্ঠিত, পাচ্ছেন পদন্নোতি । বড় বড় প্রকল্প এখন এসব পেতাত্মাদের দখলে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে বড় বড় প্রকল্পের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন দাপুটে কর্মকর্তারা। তারা জয়বাংলার শ্লোগানে বিশ্বাসী হলেও বর্তমান খোলস পাল্টিয়ে ফেলেছেন। কেউ নিজেকে বিএনপি কেউবা আবার নিজেকে জামায়াতপন্থী হিসেবে প্রচারে মগ্ন হয়ে আছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে গত ১৬ বছর ধরে গড়ে উঠা লুটপাটের সহযোগী বিগত সরকারের কর্মকর্তাদের বিতাড়িত করার কার্যকর পদক্ষেপ শুরু করেছে সরকার। 

কিন্তু মাঝখানে এসে মন্ত্রণালয় থমকে যায় অধিদপ্তরের  সিন্ডিকেটের হাতে। এখনোও  সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদেরকে বদলি করতে পাছেন না অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়। তারা এখনও বহাল তবিয়তে অফিস করছেন। কেউ বা বছরের পর বছর পোস্টিং নিজের পছন্দ্র যায়গায় তাও আবার গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ বা ঘুরেফিরেই আবার ঢাকায় বদলি হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ফ্যাসিবাদের দােসর কতিপয় কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলছেন। শেখ হাসিনার পতনের এক বছরেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। প্রকল্প থেকে লুটের টাকায় তারা সব ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে সূত্র জানায়। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দিল্লি পলায়নের পর দেশের অন্য সব সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তরের ন্যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেও চলছে চরম বিশৃঙ্খলা।

এর নেপথ্যে কাজ করছেন শেখ হাসিনার মদদপুষ্ট  কতিপয় কর্মকর্তা। তাদের মদদ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কর্মরত আওয়ামীপন্থী এবং সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর দালাল ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা । এই দালাল কর্মকর্তারাই বিভিন্ন প্রকল্পের পিডি নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবেক মন্ত্রী সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের  সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদেরকে কোটি টাকা ঘুষ দিতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন, সেসব কর্মকর্তারা যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি থাকা সত্ত্বেও তাদের অনেককে করা হয়েছে ওএসডি, অনেককেই পাঠানো হয়েছে দূর্গম ও রুগ্ন জেলাগুলোতে।

অপরদিকে শেখ মুজিবের পূজারী হয়েও বাছিরুল আলমের মতো দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পাচ্ছেন প্রাইজ পোষ্টিং।

অভিযোগ রয়েছে তিনি জুলাই আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করার জন্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম গভীর রাত পর্যন্ত  ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের সাথে শলাপরামর্শে লিপ্ত থাকতেন। এছাড়া ছাত্র জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করতে ওইসব ক্যাডারদের তিনি লাখ লাখ টাকা তুলে দেন বলে জনশ্রুতি আছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কৃষকরা যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানামুখী সংকট মোকাবিলায় লড়ছেন, তখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের প্রায় প্রতিটি খাতে নয়ছয় এবং অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতির চাষাবাদে মজেছেন- এমনটাই বলছেন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

 

You cannot copy content of this page