
কারও ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পেলে সেটা যাচাইবাছাই ছাড়া গ্রহণ ও প্রচার করা ইসলামে নিষিদ্ধ, কঠিন হারাম। মহান আল্লাহ ইসলাম নামের যে শাশ্বত জীবনবিধান আমাদের দিয়েছেন, সেখানে ধারণাবশত কারও ওপর আক্রমণ করা দূরে থাক, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কারও ব্যাপারে মন্দ ধারণা করাও নিষেধ। মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় কিছু ধারণা গুনাহ (হুজুরাত ১২)।
আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তোমরা সে বিষয়ের অনুসরণ করো না (সুরা বনি ইসরাইল ৩৬)। সন্দেহবশত কারও ব্যাপারে অহেতুক ধারণা করাই যদি অপরাধ হয়, তবে বুঝেশুনে, সজ্ঞানে নির্দোষ ব্যক্তিকে জঙ্গি হিসেবে ফাঁসিয়ে দেওয়া কত বড় জঘন্য অপরাধ, তা সহজেই অনুমেয়।
সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী গত এক শতাব্দীতে পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় যে মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে, সেটা হলো ইসলাম মানে সন্ত্রাসবাদ এবং মুসলমানরা জঙ্গি। গত এক শতাব্দীতে পরাশক্তিগুলোর অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে বড় মিথ্যা এটাই।
এই জঙ্গি জঙ্গি খেলার খপ্পরে পড়ে অনেক সময় জিহাদের ব্যাপারেও আমাদের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। অথচ তারা ক্রুসেড বা খ্রিস্টান ধর্মযুদ্ধের ঘোষণা দিলে সেটাকে কেউ সন্ত্রাসবাদ মনে করে না। জিহাদ ইসলামের মহান বিধান। তবে এর প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও শর্ত রয়েছে। নিরপরাধ মানুষ মারার নাম জিহাদ নয়। শুরু থেকেই পশ্চিমারা জিহাদকে সন্ত্রাস আখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু জিহাদ সন্ত্রাস নয়। জিহাদ আল্লাহর মহান বিধান এবং মজলুমের মুক্তির পয়গাম। আর সন্ত্রাস মজলুমকে পিষে মারার অস্ত্র। পশ্চিমা গোষ্ঠী জিহাদকে বিতর্কিত করার জন্য নিজেদের অর্থায়নে মুসলমানদের মাঝে বিভিন্ন দল তৈরি করে তাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে আর বিশ্ববাসীকে জানাচ্ছে জিহাদ এভাবেই নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করতে বলে। এসব ষড়যন্ত্রে আমরাও অনেক সচেতন মুসলমানও বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
জুমার মিম্বর থেকে বয়ান
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :