
গণপূর্ত অধিদপ্তর ই/এম বিভাগ ১ এর অফিস সহকারী মোবারক হোসেন গোলদারের বিরুদ্ধে গুরুতর দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয় শ্রেণির এ কর্মচারী তার অফিসের নথি চুরি,তৃতীয় শ্রেণির এ কর্মচারী তার অফিসের নথি চুরি, টেন্ডারবাজি, জালিয়াতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। অফিসের সাধারণ শাখা থেকে প্রাক্কলনের কাগজপত্র ফাঁস করে অর্থ আদায় করে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সম্প্রতি তিনি চলতি বছরেরে মে মাসের ২৭ তারিখে প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে (এনওসি) নিয়েছেন পাসপোর্ট তৈরী করার জন্য। জনশ্রুতি রয়েছে তিনি এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা সম্পদের দেখভাল করতে যাওয়ার জন্যই পাসপোর্ট তৈরী করতে দিয়েছেন।
আর এসব কিছুর সহযোগিতা করছেন তার অফিস এর প্রধান দেশের ইতিহাসে আলোচিত দূর্নীতি (বালিশ কান্ডের) হোতা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১ ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি প্রকল্পগুলোতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অফিস প্রধান ই/এম বিভাগ-১ ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলামের নির্দেশে গণপূর্ত বিভাগে সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জালিয়াতি করেছেন।
বিভিন্ন সাপ্লাই চুক্তি এবং বিলিং সিস্টেমে দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন। এভাবে, প্রকল্পগুলোতে প্রতিটি রক্ষণাবেক্ষণ বা নির্মাণ কাজের জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছিল।
এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মোবারক হোসেন গোলদার তিনি নিজের পকেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ রেখেছেন। তদন্তে জানা গেছে, তাকে কিছু ঠিকাদার ‘কমিশন’ বা ‘লঞ্চমনি’ হিসেবে টাকা দিতে বাধ্য ছিলেন, যার কিছু অংশ সরাসরি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হত।
ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ সম্পদ একে একে নিজের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি সরকারি তহবিলের ব্যাপক ক্ষতি করেছেন এবং নিজের জীবনযাত্রার মান উর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারি খাতে ক্রমাগতভাবে ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারি তহবিল থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে তিনি সাপ্লাইরদের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান কমিয়ে সরকারকে প্রতারণা করতেন।
মোবারক হোসেন গোলদারের সম্পদ এবং ্বিদেশি বিনিয়োগঃ অবৈধ সম্পদ কোথায়?
তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি তার জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করতে একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি এবং গাড়ির মালিক হয়েছেন। তার নামে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজ্ঞান এলাকায় জমি এবং ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। শুধু দেশেই নয়, তার নামে বিদেশেও একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। এমনকি, তিনি কিছু বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন, যেখানে তিনি নিজে একাধিক কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে পরিচিত। এই সমস্ত সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার এসব সম্পদ অর্জন করার পদ্ধতি। চাকরি জীবনে একটি সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যেভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন, তা পুরোপুরি অস্বাভাবিক এবং অবৈধ উপায়ে উপার্জন বলে মনে হচ্ছে। তার জীবনের উত্থান এবং অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে পরিষ্কারভাবে দুর্নীতি এবং অবৈধ কার্যক্রমের ছাপ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয় যোগাযোগ করার জন্য মোবারক হোসেন গোলদারের হোয়াটসএ্যাপে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি, পরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিষয়ে মেসেজ করলে তিনি দেখেও তার উত্তর দেননি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন আমার জানা ছিলনা বিশয়তা, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এমন ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সেজন্য আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, যে ধরনের দুর্নীতি এবং অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে তা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একই সাথে, ভবিষ্যতে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে স্বচ্ছতা ও তদারকি বৃদ্ধি করা হবে।
এই ঘটনা সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে একজন অফিস সহকারী সরকারের টাকা পাচারের মাধ্যমে এত সম্পদ গড়তে সক্ষম হন? জনগণের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে, এবং আশা করা হচ্ছে যে, দ্রুতই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :