যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনার জন্য অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশ


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৫, ৩:১৫ পূর্বাহ্ন /
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনার জন্য অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

বাড়তি শুল্কহার কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফা দরকষাকষির জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিজেদের খসড়া অবস্থানপত্র মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল (২২ জুলাই) ইমেইল পাঠিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সময় চেয়েছে। তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য ঢাকার অনুরোধে ওয়াশিংটন এখনো সাড়া দেয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আলোচনার জন্য বৈঠকের সময় চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। তবে তারা এখনো আমাদের কোনো সময় জানায়নি।’

খসড়া অবস্থানপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ও শ্রম অধিকারসহ বিভিন্ন অবাণিজ্যিক শর্ত (বাণিজ্যের বাইরের ইস্যু) বাস্তবায়নে ৫ থেকে ১০ বছর সময় চাওয়া হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিন মাস স্থগিত থাকার পর গত ৭ জুলাই হঠাৎ করে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগের চেয়ে ২ শতাংশ কমিয়ে বাড়তি ৩৫ শতাংশ শুল্ক নতুন করে আরোপ করে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ আগস্ট। বাড়তি শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ দুই দফা দরকষাকষি করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর বিষয়ে পরিষ্কার কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। বরং বাংলাদেশের জন্য কিছু কঠিন শর্ত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যার বেশির ভাগই বাণিজ্যের বাইরের ইস্যু। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ শর্তগুলো কঠিন, যা বাংলাদেশের পক্ষে মানা সহজ হবে না।

এদিকে, বাড়তি শুল্কারোপ কার্যকর হওয়ার জন্য সময় আছে আর মাত্র সাত দিন। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে বাংলাদেশকে। তা না হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য আগামীতে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের বিশেষ করে পোশাক মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তারা বলেছেন, অবাণিজ্যের বিষয়গুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ লম্বা সময় চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পাঁচ বছরে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সোমবার দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি বোয়িং কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। 

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের তৈরি করা খসড়া অবস্থানপত্র চূড়ান্ত করতে সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থানপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করে ইউএসটিআরের কাছে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চুক্তির খসড়া এবং বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। তাতে উভয়পক্ষ একমত হলে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হবে, যার আওতায় বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমে আসবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরিতে ২০ জুলাই আন্তমন্ত্রণালয় সভা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক ছাড় দেওয়াসহ দেশটি থেকে জিটুজি (সরকারি পর্যায়ে) ভিত্তিতে আমদানি বাড়ানোর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘খসড়া চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অবাণিজ্যিক শর্ত দিয়েছে, সেগুলোতে সম্মতি দেবে না বাংলাদেশ। তবে সরাসরি শর্তগুলো নাকচ করে না দিয়ে এসব শর্ত পূরণের জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ বছর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত সময় চাওয়া হবে।’

ইন্দোনেশিয়া সরকার লবিস্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে পারস্পরিক শুল্কের হার ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পরও বাংলাদেশের লবিস্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।’

‘ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চুক্তিতে যে ধরনের শর্ত দিয়েছে এবং তা প্রকাশ না করার জন্য নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট করেছে, ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাই ইন্দোনেশিয়া লবিস্ট নিয়োগ দিতে পারলেও বাংলাদেশ তা পারছে না,’ বলেন তিনি।

You cannot copy content of this page