বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জে হরিলুটের স্বর্গরাজ্য: বন উজাড় করে কোটি কোটি টাকা লুটের নেপথ্যে ভূমিকায় আওয়ামী দোসর রেঞ্জার আল আমিন


ক্রাইম রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে :- প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৫, ৬:৪৫ অপরাহ্ন /
বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জে হরিলুটের স্বর্গরাজ্য: বন উজাড় করে কোটি কোটি টাকা লুটের নেপথ্যে ভূমিকায় আওয়ামী দোসর রেঞ্জার আল আমিন

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের মিরসরাই রেঞ্জে চলছে হরিলুট। রেঞ্জ কর্মকর্তা আলামিন গত ৪ মাস আগে এই রেঞ্জের দায়িত্ব নেবার পর উপরি আয়ের নেশায় উন্মাদ হয়ে একের পর এক অনিয়ম করেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রাপ্ত তথ্য মতে জোরারগঞ্জ বিট এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ পাচার, মহামায়া ইকো পার্ক সংলগ্ন লেক থেকে অবৈধভাবে মাছ আহরণ ও বিক্রি, সুফল প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত প্রায় এক কোটি টাকার বন অগ্রিম অর্থ থেকে ভুয়া বিল ভাউচার এর মাধ্যমে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সুফল প্রকল্পের বরাদ্দকৃত নতুন হোন্ডা মোটরসাইকেল বিক্রি করে চুরি বলে থানায় জিডি করে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা সহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে এই রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, জোরারগঞ্জ বিট এলাকায় রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নিয়মিত গাছ পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আলা আমিন ও বিট কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান এর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গত ৪ মাসে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চাল থেকে কয়েক কোটি টাকার কাঠ পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলেও সংশ্লিস্ট সুত্রে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া মহামায়া ইকোপার্ক সংলগ্ন লেকে অবৈধভাবে মাছ আহরণ ও বিক্রির বিষয়েও রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ইজারাদারদের দাবি, প্রতিদিন ২০-৩০ জন বহিরাগত জ্বাল নিয়ে লেকে প্রবেশ করে। তাদেরকে বাধা দিলে বলে রেঞ্জার সাহেবের অনুমতি নিয়েই মাছ ধরতে এসেছি। পরবর্তীতে ঐ লেক থেকে আহরিত মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করে একটা অংক রেঞ্জার সাহেবের কাছে পৌছে দেয়া হয় বলেও একজন ইজারাদার জানান।

এছাড়া, সুফল প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত প্রায় এক কোটি টাকার বন অগ্রিম অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মানুবর্তিতা রক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের একটি অংশ বিট পর্যায়ে বিতরণ করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ভুয়া বিল ভাউচারে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে সুফল প্রকল্পে বরাদ্দকৃত একটি নতুন হোন্ডা মোটরসাইকেল গত ৩ জুন চুরি হয়। এ ঘটনায় মীরসরাই থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির পর থেকে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মচারী জানান মোটরসাইকেলটি রেঞ্জার আল-আমিন সাহেব তার গ্রামের বাড়ীতে পঠিয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সুফল প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বন সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযোগগুলো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আল আমিনের নাম্বার এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো রেসপন্স করেননি।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম কায়চার জানান, উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে রেঞ্জে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বন কর্মচারী জানান সুফল প্রকল্প থেকে লুটপাটকৃত অর্থ, সংরক্ষিত বনাঞ্জলের কাঠ পাচারের পার্সেন্টেজ নিয়মিতভাবে ডিএফওর কাছে পৌছে দেয়া হয়। একারনেই তিনি সকল কিছু অবগত থাকলেও নিরব ভূমিকা পালন করে থাকেন।

You cannot copy content of this page