
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানিয়েছেন, হাদির খুনিরা যদি দেশের বাইরেও পালিয়ে থাকে, তবে তাদের সেখান থেকে খুঁজে বের করে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি লঞ্চঘাটের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি লঞ্চ ঘাট’ নামকরণের ফলক উন্মোচন শেষে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে তাঁর নিজ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ওসমান হাদি ছিলেন একজন বিপ্লবী; আর বিপ্লবীদের কখনো মৃত্যু হয় না।”
তিনি আরও বলেন, হাদির হত্যাকারীরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এ মাসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে বলেও জানান তিনি। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং পার্শ্ববর্তী দেশে যারা পালিয়ে গেছেন তাদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা চলছে।
ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাদির নাম এখন আর কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে বিপ্লবীদের প্রেরণা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই হাদির স্মৃতি রক্ষার্থে এই লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাদির বোন মাছুমা বলেন, “ওসমান হাদি ইনসাফ কায়েম করতে জীবন দিয়েছেন। তাকে আপনাদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা চাই ওসমান হাদি বেঁচে থাকুক সবার মাঝে। কোনো প্রাপ্তি নয়, ইনসাফ চাই। ভাই হত্যার বিচার চাই। সরকার যদি ভাই হত্যার বিচার করতে না পারে তবে তারা চলে যাক; তাদের থাকার কোনো অধিকার নেই। ওসমান হাদির মাথায় গুলির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব শেষ করে দিয়েছে, হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ওসমান বেঁচে থাকলে দেশে চাঁদাবাজি হতো না। ওসমান দেশের নয়, বিশ্বের মজলুমদের ওসমান হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আওয়ামী দোসররা এখনও সর্বত্র বিরাজ করছে।”
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
তারা হলেন, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিননউদ্দিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, শহীদ ওসমান হাদির বোন মাসুমা আক্তার, ভগ্নিপতি আমির হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা দ্রুত হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা। শহীদ ওসমান হাদির নামে লঞ্চঘাটের নামকরণকে এলাকাবাসী শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :