বনপাড়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে জনআস্থা—শীর্ষ পছন্দে বিএনপি নেতা লিটু


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন /
বনপাড়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে জনআস্থা—শীর্ষ পছন্দে বিএনপি নেতা লিটু

নাটোর জেলার অধীন প্রথম শ্রেণির বনপাড়া পৌরসভা বিএনপি’র প্রয়াত নেতা মরহুম অধ্যক্ষ একরামুল আলমের হাতে ২০০০ সালে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দক্ষ নেতৃত্বে বনপাড়াকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত পৌর নগরীতে রূপান্তরিত করেন।

পরে আওয়ামী লীগের কেএম জাকির হোসেন মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে বৈষম্যমূলক উন্নয়ন ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার আমলে বনপাড়া পরিণত হয় মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে।

গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখের পরে সারাদেশের ন্যায় বনপাড়াসহ সকল পৌরসভার মেয়র ও কমিশনারদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। ফলে পৌর সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—বনপাড়া পৌরসভার সম্ভাব্য অভিভাবক হিসেবে জনগণ বিএনপি নেতা মোঃ জামান মাসুদ লিটু–কে এগিয়ে রাখছেন।

জনগণের দাবি, লিটু একজন সৎ, শিক্ষিত, স্পষ্টবাদী ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ। ভদ্র, সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা সর্বমহলে সমান। দিনমজুর, কুলি, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাঝেও রয়েছে তার অবাধ পদচারণা ও আস্থা।
মোঃ জামান মাসুদ লিটু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। চাকরি পেশার পাশাপাশি তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

১৯৮৭ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় শহীদ আঃ আলিমসহ সহপাঠীদের সঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতিতে তার পদার্পণ। মরহুম শিক্ষক আব্দুল কাদের বিএসসির হাত ধরেই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ছাত্রজীবনে তিনি—সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ ছাত্রদলের সভাপতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং বনপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়ের করা ২১টি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। প্রতিটি মামলায় আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন তিনি।

তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি এবং কখনো পদ-পদবীর জন্য কারও দ্বারস্থ হননি। বরং তিনি পদবাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থেকেছেন। তারেক রহমানকে তিনি নিজের একমাত্র আদর্শ নেতা হিসেবে মনে করেন।
মেয়র পদে নির্বাচন করবেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে লিটু বলেন,
“আমার নেতা তারেক রহমান যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন, তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করব; অন্যথায় নয়।”
তিনি আরও বলেন— “অশিক্ষিত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, সাংবাদিকদের উচিত তাদের স্বরূপ জনগণের সামনে তুলে ধরা। নাটোর জেলায় বিএনপি নামধারী একটি কুচক্রী মহল অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবি ও নমিনেশন বাণিজ্য করে থাকে—ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
লিটু সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান—জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা, প্রার্থীদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করার জন্য।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন—
“জনগণ যদি আমাকে তাদের অভিভাবক হিসেবে চান, তবে আল্লাহর রহমতে এবং তারেক রহমানের সুদৃষ্টিতে নিশ্চয়ই আমাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

You cannot copy content of this page