আত্রাইয়ে রহিম হত্যার ঘটনার ১০ দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ


রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ৩:০৬ অপরাহ্ন /
আত্রাইয়ে রহিম হত্যার ঘটনার ১০ দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের দিঘীরপার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হাজের আলীর ছেলে আব্দুর রহিম শেখ (৪০) কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গত ৯দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জরিত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে একদিকে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে যেমন হতাশায় পরেছে নি:স্ব পরিবারটি,অন্যদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত রহিমের সেই স্ত্রী মর্জিনা বিবি বুধবার ভোরে মারা যাওয়ায় নতুন করে এলাকায় শোকের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পরিবারটি আরো একটি ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর ওই পরিবারের একমাত্র ভরসা দিনমজুর রহিমকে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে চাচাতো ভাই-ভাতিজারা। পরে ২৫ নভেম্বর বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রহিম। এতে ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী,শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধি কন্যা, চার বছরের শিশু পুত্র এবং ৭২বছর বয়সী অসুস্থ্য মা নি:স্ব হয়ে পরে।
‎রহিমের ভগ্নিপতি খলিলুর রহমান বলেন,জায়গা জমির কাগজপত্র চাওয়া নিয়ে গত ২৪নভেম্বর রাত অনুমান ১০টা নাগাদ রহিমের চাচাতো ভাই আব্দুল খালেক,ভাতিজা আরিফ ও বারিকসহ প্রায় ১৩/১৪জন এসে রহিমকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বাহিরে নিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই হাসপাতাল ভর্তি করে দেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ২৫নভেম্বর বিকেলে মারা যান রহিম। এঘটনায় রহিমের বোন মরিয়ম বিবি বাদী হয়ে ৮জনকে এজাহারনামীয় এবং আরো ৫/৬জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে আত্রাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন,মামলা দায়েরের পর থেকে আসামী গ্রেফতারে পুলিশের তেমন কোন ভ‚মিকা দেখা যাচ্ছেনা। ফলে মামলার ভবিষ্যত এবং সুষ্ঠু বিচার নিয়ে চরম হতাশায় পরেছেন তারা।
‎খলিলুর রহমান আরো জানান,ওই পরিবারে একমাত্র ভরসা ছিলেন রহিম। রহিম অন্যের বাড়ীতে দিন মজুরের কাজ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী মর্জিনা বিবি,জন্মগতভাবে শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে,মাত্র চার বছরের শিশু পুত্র এবং ৭২বছর বয়সি অসুস্থ্য মায়ের চিকিৎসা,সেবাযত,পরিচর্জা এবং রান্না করে খাওয়াতেন তিনি। এঅবস্থায় রহিম শেখ নির্মম হত্যার শিকার হলে পরিবারটি একদম নি:স্ব হয়ে পরে। এরই মধ্যে একমাত্র পুত্রবধু মর্জিনা বিবি বুধবার ভোরে মারা যাওয়ায় অসুস্থ্য মা রবিজান বেওয়া (৭২) প্রতিবন্ধী নাতনি বেহেস্তি এবং চার বছরের নাতি শিশু নিরব শেখকে নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পরেছেন। তিনি বলেন,পরিবারের এমন অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন চাল-ডাল দিয়ে সহায়তা করেছেন। এছাড়া গ্রামের একজন ব্যক্তি ওই পরিবারকে বেশ কিছু টাকা অনুদান প্রদানে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের দেখা শোনা বা পরিচর্জা করার মতো এখনো কেউ পাশে দাড়ায়নি। ফলে আমরা স্বজনরা পালাক্রমে তাদের সেবা যন্ত করে যাচ্ছি।
‎এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওবাইদুর রহমান ওই পরিবারের অসহায়ত্বের কথা স্বরণ করে বলেন, রহিম হত্যার মধ্য দিয়ে পরিবারটি সত্যিই নি:স্ব হয়ে পরেছে। তিনি বলেন,আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কোন গাফিলতি নয়, দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

You cannot copy content of this page