
সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে অনুমোদন পাওয়া উজান কান্দা সেচ প্রকল্প দখলে বাধা সৃষ্টি ও জোরপূর্বক স্কীম দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কীম ম্যানেজার মো. আনোয়ার মিয়া লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে মো. আনোয়ার মিয়া উজান কান্দা সেচ প্রকল্পের স্কীম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী তাকে পুনরায় স্কীম ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি অনুমোদনের পর কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পাঁচ দিন ধরে ড্রেইন নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন, যার ব্যয় হয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
কিন্তু দুর্লভ এলাকার বাসিন্দা খালেক মিয়া (৬৫), বাচ্চু মিয়া (৫০), এলিম মিয়া (৩৫), জিয়াউল হক (৪৫), আবু মিয়া (৫৫), কাজিম মিয়া (৪৫), ফতু মিয়া (৫০), হাকিম মিয়া (৫৫)সহ আরও অনেকে অনুমোদিত কৃষক না হয়েও দলবল নিয়ে স্কীম দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং দা, লাঠি, লোহার রড ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি জোর করে স্কীমটি স্ট্যাম্পে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি শ্রমিকদের মোবাইলে সংরক্ষিত আছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় গন্যমান্যদের জানালেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বিলম্বে অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান স্কীম ম্যানেজার।
এ বিষয়ে জানতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) মোঃ আছাদুল হক বলেন,
“বিষয়টি আমি আপনার নিকট প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বসব।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমীন বলেন,
“অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেচ প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।”
স্কীম ম্যানেজার মো. আনোয়ার মিয়া প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :