গঙ্গাচড়ার গরীব মানুষের রক্ত চোষা দাদন ব্যবসায়ী মজিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন


মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ৮:০২ অপরাহ্ন /
গঙ্গাচড়ার গরীব মানুষের রক্ত চোষা দাদন ব্যবসায়ী মজিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সুদের দাদন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মোঃ আব্দুল মজিদ ও তার কন্যা মোছাঃ মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা আজ দুপুরে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং পরে এলাকার সর্বসাধারণের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বাদী মোঃ হাফিজুল ইসলাম (৪৬) জানান, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিক সংকটে পড়ে তিনি প্রতিবেশী দুদু মিয়ার মাধ্যমে ১নং বিবাদী আব্দুল মজিদের সঙ্গে পরিচিত হন। সাক্ষীর উপস্থিতিতে মজিদ তার নিকট থেকে একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক (নং–২৫১২১৪৩) ও দুইটি সাদা স্ট্যাম্পনামায় সহি নিয়ে তাকে ধারস্বরূপ ২০ হাজার টাকা দেন।
পরবর্তীতে দুই বছর আগে অন্য দুই সাক্ষী— মোঃ রজব আলী ও দুদু মিয়ার উপস্থিতিতে তিনি মূল টাকা ও অতিরিক্তসহ মোট ৩৪,২০০ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু টাকা পরিশোধের পরও মজিদ ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে উল্টো আরও ১৪,২০০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদীর সঙ্গে ২নং বিবাদী মাহমুদা আক্তার— যিনি ১নং বিবাদীর মেয়ে— এর কোনো পরিচয় বা লেনদেন না থাকলেও, পরবর্তীতে তিনি দায়েরকৃত চেকটি ব্যাংক ডিজঅনার দেখিয়ে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবিতে রংপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা (নং–৩০৭/২৩) দায়ের করেন।
শুধু বাদীই নন, তার সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তি— রানা মিয়া ও বাচ্চু মিয়া— অভিযোগ করেন যে, একই কায়দায় তাদের কাছ থেকেও মজিদ ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আব্দুল মজিদ পূর্ববর্তী সরকারে একজন রাজনৈতিক কর্মী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দাদন ব্যবসার আড়ালে এলাকার গরিব-অসহায় মানুষের কাছ থেকে অত্যধিক সুদ আদায়, ভয়-ভীতি, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছে।
এ ঘটনায় আজ গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় “গরীবের রক্তচোষা সুদ ব্যবসায়ী মজিদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন” কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। তারা মজিদের দাদন ব্যবসা, সুদের কারবার ও প্রতারণার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

You cannot copy content of this page