
বাংলার প্রাচীন খেলাধুলার ঐতিহ্য আবারও জীবন্ত হয়ে উঠল ময়মনসিংহ জেলার ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ির বিষ্ণুপুর সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ মাঠে। প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ, গ্রামের মানুষের আনন্দ-হুল্লোড় আর উত্তেজনায় ভরপুর হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে প্রতিটি খেলার দিনটি যেন এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়।
ভোর থেকেই মাঠের চারপাশে ভিড় জমতে থাকে। কৃষক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী, এমনকি দূর-দূরান্তের দর্শকরাও ছুটে আসেন খেলা দেখার জন্য। গাছের ছায়াতলে বসে গ্রামের নারী-পুরুষরা আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন, ছোটরা দৌড়ঝাঁপে মাঠ মাতিয়ে রাখে। হালকা বাতাস আর সবুজ ঘাসের সুবাস যেন পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
খেলা শুরু হতেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় সমান দক্ষতা ও মনোযোগ। প্রতিপক্ষের দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ‘হা-ডু-ডু’ উচ্চারণ ধরে রাখা, দ্রুত পলায়ন, কৌশলপূর্ণ আক্রমণ—প্রতিটি মুহূর্তই থাকে উত্তেজনায় ভরা। দর্শকদের উল্লাসধ্বনি খেলোয়াড়দের আরও উদ্দীপ্ত করে তোলে। কেউ কেউ আবার ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বাড়িয়ে দেন উৎসবের আমেজ।
দুই দফার লড়াই শেষে ফাইনালে ওঠে স্থানীয় দু’টি জনপ্রিয় দল। হাড্ডাহাড্ডি সেই ফাইনাল ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখা উত্তেজনায় দর্শকরাও নিশ্বাস বন্ধ করে খেলায় চোখ রাখেন। এভাবেই শেষমেশ মাত্র পার্থক্য নির্ধারণকারী পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পরাজয় দর্শকবৃন্দ পাবে।
খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া যেমন হবে তেমনি দর্শকদের আনন্দ যাবে দেখা। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা ও আয়োজক কমিটি জানায়, “গ্রামীণ খেলাধুলা টিকিয়ে রাখা ও নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর এই হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।”
প্রকৃতি, মানুষ ও খেলাধুলার মিলনমেলা—এ দিনের আয়োজন শুধু একটি খেলা নয় বরং গ্রামের মানুষের মিলনোৎসব, আনন্দের ভাগাভাগি এবং ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।
খেলা অনুষ্ঠিত গ্রামের বাসিন্দা, শিক্ষানুরাগী ও সাংবাদিক মিয়া সুলেমান মনে করেন, “মাটির ঘ্রাণে, দৌড়ের ছন্দে—হা-ডু-ডুতে লুকিয়ে আছে যেমন স্বাধীনতার আনন্দ, জয়-পরাজয়ের বাইরে হা-ডু-ডু শেখায় তেমনি চেষ্টা আর মনোবলের মূল্য।”
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :