
শেষ মুহূর্তের হতাশা যেন বাংলাদেশের ফুটবলের চেনা দৃশ্য হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল, স্কোরলাইন তখন বাংলাদেশ ২, নেপাল ১। কিন্তু ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে নেপাল সমতায় ফেরে। ফলে আবারও ইনজুরি টাইমে জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের।
বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে থেকেও হামজা চৌধুরীর জোড়া গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে জয় থেকে বঞ্চিত হয় জামাল ভূঁইয়ার দল।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে নেপাল গোল পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে, ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন ঠিকভাবে মার্কিং করতে না পারায় নেপালের ফরোয়ার্ডের কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে পারেননি সোহেল রানা। ফেরত বল ধরে রোহিত চাদের নেওয়া জোরালো শট বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় নেপালের ১-০ গোল লিডে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা সোহেল রানার বদলে নামান সামিত সোমকে। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে অধিনায়ক জামালের পাস থেকে শূন্যে লাফিয়ে দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকে গোল করেন হামজা চৌধুরী। গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শকরা।
মাত্র তিন মিনিট পরই আবার গোল পায় বাংলাদেশ। ফরোয়ার্ড রাকিব বক্সে ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। নিজেই স্পটকিক থেকে শট নিয়ে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হামজা।
২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পর এটি হামজার পঞ্চম ম্যাচ। আজকের জোড়া গোলে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল চার।
খেলার ৮০ মিনিটে হামজাকে উঠিয়ে নেন কোচ। এরপরই নেপাল কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে অনন্ত তামাং ফ্লিক করে জালে পাঠান বল। বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলরক্ষক মিতুলকে পরাস্ত করে গোলটি করেন তিনি।
এর আগেও ইনজুরি সময়ে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। গত ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে সমতা এনেও ইনজুরি টাইমে গোল খেয়ে ম্যাচ হারতে হয়েছিল। এক মাস পর প্রীতি ম্যাচেও পুনরাবৃত্তি ঘটল সেই ব্যথার স্মৃতি।
১৮ নভেম্বর ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচ সেই প্রস্তুতিরই অংশ ছিল। প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ছয়জন ফুটবলার পরিবর্তন করে। কিউবা মিচেলের জাতীয় দলে অভিষেক হয় এই ম্যাচে।
শেষ পর্যন্ত ইনজুরি সময়ের সেই গোলেই জয় হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের, আবারও জয় থেকে বঞ্চিত হলো জামাল-হামজারা।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :