গণভোট নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসছেঃ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল


স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১০:২০ পূর্বাহ্ন /
গণভোট নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসছেঃ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

গণভোটের সময়সূচি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।

বলেন, ‘গণভোটের তারিখ নির্ধারণের একক দায়িত্ব প্রধান উপদেষ্টার, শিগগিরই সে বিষয়ে ঘোষণা আসবে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আসিফ নজরুল।

আইন উপদেষ্টা বলেন, গণভোট হবে কি না, কবে হবে এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দলের হাতে নয়। প্রধান উপদেষ্টাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা উপদেষ্টারা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান জানাতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই আসবে। আমরা চাই এই সিদ্ধান্ত দ্রুত হোক, যাতে অনিশ্চয়তা না বাড়ে।

জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশে বলা হয়েছে, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে গণভোট আয়োজন করতে হবে জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী চায় জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট হোক, যাতে সনদের বৈধতা নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে বিএনপি দাবি করছে, নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে এটাই একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায়।

দলগুলোর মধ্যে এই মতবিরোধ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, দীর্ঘ ২৭০ দিন আলোচনা চলেছে। এত সময় দেওয়া সত্ত্বেও এখন যে অনৈক্য দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। কেউই যেন নিজস্ব স্বার্থে সরকারকে চাপিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে চেতনা সৃষ্টি হয়েছিল, দলগুলো এখন সেটিকেই বিভক্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। এটা জাতির জন্য শুভ নয়।

গণভোটের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়েও মন্তব্য করেন আইন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করব। নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন অনেক দূর এগিয়েছে। গণভোটের সিদ্ধান্ত যাই হোক, নির্বাচনের সময়সূচিতে প্রভাব পড়বে না।

এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচিত সংসদ সংস্কারের কোনো সুযোগ রাখবে না এমনটা ভাবা ভুল। সংস্কার হবে ধাপে ধাপে। অন্তর্বর্তী সরকার যতটা পারবে, করবে বাকিটা হবে নির্বাচিত সংসদের সময়। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া কোনো সংস্কারই টেকসই নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ নজরুলের বক্তব্য সরকারের অভ্যন্তরে দৃঢ় অবস্থান নির্দেশ করে যে গণভোটের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক টানাপোড়েন নয়, বরং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সালেহীন মজুমদার বলেন, আইন উপদেষ্টার বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার চাইছে না রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিদাওয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে। এটা সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষার কৌশলও হতে পারে।

বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের নেতারা আজকের এই বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার এখন সময়ক্ষেপণ করছে। গণভোটের সিদ্ধান্ত না দিয়ে তারা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় রাখতে চাইছে।

অন্যদিকে জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আইন উপদেষ্টার বক্তব্যে আমরা ইতিবাচক দিক দেখছি। যদি প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত সিদ্ধান্ত দেন, তা হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতি ফেরানো সম্ভব।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা।

দলগুলোর মতবিরোধকে ‘হতাশাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে।

You cannot copy content of this page