
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি) মুসলিম বোনদেরকে হিন্দুত্ববাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং গাজীপুরে ১৩ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও বুয়েটে ধর্ষক শ্রীশান্ত পাল সহ সকল ধর্ষণের বিচার এবং ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর ২০২৫) জুম্মার নামাজ শেষে বেরোবির প্রধান ফটকে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বেরোবির আয়োজনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত বিচারব্যবস্থায় নজর দেওয়া। ২৪ পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধর্ষণের দৃশ্যমান বিচার আমরা দেখতে পাইনি। যারা এই ধরনের ধর্ষণের সাথে জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হেলাল রহমান বলেন, “ইসকন একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন যা ধর্ম প্রচারের নামে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা কালীন সময় থেকে শিশুদের যৌন নিপীড়ন, জমি দখল, মুসলমানদের উপর আক্রমণসহ হত্যার মতো জঘন্য কার্যক্রম সংগঠিত করে যাচ্ছে। ইসকনের দ্বারা র্যাডিকালাইসড বুয়েটের হিন্দু ছাত্র মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে যৌন আগ্রাসন চালাচ্ছে।
ইসকন বছরের পর বছর পরিকল্পিতভাবে নামাযের সময় বাদ্যবাজনা, রাস্তায় বর্শা হাতে মার্চ, এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। ইসকনের মত এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে অতি বিলম্বে বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই।”
বেরোবি মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত ইনজামাম আবির বলেন, “ইসকন একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তাদের উগ্র কাজের মধ্যে অন্যতম কাজ হচ্ছে মুসলিম বোনদের ধর্ষণ এবং ভারতে পাচার করা। ইসকনের এ সকল কার্যক্রম আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। আমরা এই ইসকনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বোনদের ধর্ষণের সর্বোচ্চ বিচার চাই।
বেরোবি মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসিয়েশনের সভাপতি রিয়াহাত কবির অমিও বলেন, “ইসকন একটি জঙ্গি সংগঠন। কিছুদিন আগে মুসলিম মেয়ে হিন্দু ছেলের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এটি ইসকনের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র থেকে জাতিকে সচেতন করার জন্য আমরা আন্দোলন এবং মানববন্ধন করছি যা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।”
এসময় তিনি সকল ধর্ষণ মামলা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ডসহ) কার্যকর করা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা সহ ইসকনকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনকারীরা দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার ব্যবস্থা চেয়ে প্রশাসন, বিচারিক অঙ্গন ও সরকারকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :