দেশে নতুন সুযোগে অনৈক্যে ভরে উঠেছে রাজনীতি-মির্জা ফখরুল


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৫, ৬:০৭ অপরাহ্ন /
দেশে নতুন সুযোগে অনৈক্যে ভরে উঠেছে রাজনীতি-মির্জা ফখরুল

এবারের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশকে গড়ার এক বড় সুযোগ দেখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি উদ্বিগ্ন যে, সেই সুযোগ এখনও ব্যবহার হয়নি বরং রাজনীতির মাঠে ও সমাজে এক অনৈক্যের সুর বাজছে।

সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বর্তমান বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়, আয়োজনে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা নামে ম্যাগাজিন পত্রিকা।

ফখরুল বলেন, এই এত বড় অভ্যুত্থানের পর দেশকে সুন্দর করার সুযোগ এসেছে। কিন্তু চারদিকে দেখা যাচ্ছে রাজনীতিকরা ঐক্য হারিয়ে ফেলেছেন, অনেকে চলে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, রাজনীতির মধ্যে যদি সৌন্দর্য না আসে, সততা না থাকে, তাহলে রাজনীতি কখনোই সুন্দর উচ্চশিখরে যেতে পারবে না। রাজনীতিকদের কথা হয়তো শুনতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু তারা এক দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে পথ তৈরি করে বা পথ নষ্ট করে।

শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান গুণগত অবস্থা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই দেশে বিএ–এমএ পাস করে অনেকে বেকার হয়ে বসে থাকে। কিন্তু কারিগরি পড়লে কমই বেকার হয়। দেশে কারিগরী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব নেই।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সামনে এখন বিরাট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। দৃঢ় থাকতে হবে, চিন্তা করতে হবে স্বপ্ন দেখতে। এই দেশ এখন সমস্যায় জর্জরিত—তা আপনারাই পরিবর্তন করবেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিত বক্তারা শিক্ষার্থীদের বলেন, শুধু চাকরির পিছনে ছুটবেন না, উদ্যোক্তা হোন, বন্ধুত্ব ও প্রতিবাদের মানসিকতা ধরে রাখুন, একতা বজায় রাখুন।

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সামাজিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেকে দেখেছিলেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে। কিন্তু মির্জা ফখরুলের ভাষায় এখন সেই নতুন অধ্যায় প্রবেশ করতে পারছে না কারণ রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক বিভাজনে জর্জরিত।

রাজনীতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তার দেওয়া ত্রুটি-বিচারের অভিযোগ দেশের বৃহত্তর আলোচনায় উঠে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব, শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান কম হওয়া, কারিগরি শিক্ষার প্রতি অপ্রতুল গুরুত্ব।

এই সকল বিষয় মিলিয়ে দেখা যায় ভালো শিক্ষা, কার্যকর রাজনীতি ও সামাজিক একতা দেশের উন্নয়নের জন্য মাইলফলক। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি তার আহ্বান সময়োপযোগী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গুরুত্ব চেনে একতার এবং উদ্যোগের। যুক্ত হয়েছেন বক্তারা যারা বলছেন দেশের কাছে চাওয়ার আগে ‘দেওয়ার মনোভাব’ তৈরি করা প্রয়োজন।

ফখরুলের মতে, শিক্ষার্থীরা যাতে শুধু চাকরির জন্য নয় দেশ গড়ার দায়িত্ব মনে রেখে এগিয়ে আসে।

তিনি বলেন, এই সময় আপনারাই ওড়ার সময়। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে।

নতুন সুযোগ এসেছে গণ-অভ্যুত্থানের পর জনতাভিত্তিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা। কিন্তু সেই পরিবর্তনের বীজ যদি রাজনৈতিক বিভাজন, শিক্ষা জীবাণু ও দায়িত্বহীনতায় মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তাহলে সুযোগ হারিয়ে যাবে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় রাজনীতিতে সঠিক মনোভাব, শিক্ষায় গুণমান ও সামাজিক একতা ছাড়া দেশকে সুন্দর করার পথ আঁকা সম্ভব নয়। ওই পথটি ধরাই হবে—কিন্তু হয়তো অনেক সময়, অনেক উদ্যোগ ও অনেক একতার প্রয়োজন।

You cannot copy content of this page