বড়াইগ্রামে শিশু নুরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় দাদির বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫, ৪:১২ অপরাহ্ন /
বড়াইগ্রামে শিশু নুরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় দাদির বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকরি গ্রামে দুই বছরের শিশু নুরুল ইসলামকে জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই দাদির বিরুদ্ধে। নিহত শিশু নুরুল ইসলাম উপজেলার ইকরি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন ও পায়েল আক্তারের একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে শাহাদাত হোসেন নিজেই স্থানীয় একটি দোকান থেকে জুস কিনে এনে তা তার মা ছকিনা বেগমের (৫০) হাতে তুলে দেন। পরে ছকিনা বেগম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জুসটি পরিবেশন করেন। পরিবারের সবাই জুস পান করে পার্শ্ববর্তী এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিতে যান।

বিয়েবাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক আধা ঘণ্টার মধ্যেই শিশু নুরুল ইসলাম বমি করতে শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু রাজশাহী নেয়ার পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মরদেহ নাটোর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুস সালাম জানান, “শিশুটির মুখ থেকে বিষের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, যা থেকে ধারণা করা যাচ্ছে—তার খাদ্যে বিষ মেশানো ছিল।”

শিশুটির বাবা শাহাদাত হোসেনের অভিযোগ, তার মায়ের (ছকিনা বেগম) সঙ্গে স্ত্রী পায়েল আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। পরিবারের দাবি, এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে শিশু নুরুলকে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাওয়ানো হতে পারে।

অভিযুক্ত ছকিনা বেগম অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে কিছু দেইনি। আমার হাতে তো ছেলে জুস দিয়ে গেছে, আমি শুধু দিয়েছি। ওর মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ ছিল ঠিক, কিন্তু নাতির সঙ্গে তো কোনো শত্রুতা ছিল না।”

ঘটনার পর গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ছকিনা বেগমকে আটকে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা তার মায়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে শিশুটির দাদি ছকিনা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুই বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনই শেষ পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে পারবে। তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী ও শিশুর পরিবার।

You cannot copy content of this page