
কুমিল্লার মুরাদনগরে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থেকে নানা অনিয়ম করে বানিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। তিনি মূলত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ট্যাগ অফিসারের কাজ করছেন। নিজের পদের বাইরেও অনিয়ম-দুর্নীতির বড় দুটি খাত দখলে রেখেছেন তিনি।
এছাড়া উপজেলার ৩৮ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাকে মুরাদনগর উপজেলা কমপ্লেক্সের ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসাবে সবাই চেনেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সরকার একই কর্মস্থলে ১৯ বছর ধরে ঘাপটি মেরে বসে আছেন। তার উপরের ডালপালা ও নিচের শেকড় এতটাই শক্তিশালী যে তাকে বদলির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে খোদ কৃষি বিভাগ। তার দায়িত্বরত কর্ম-এলাকা উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নে। কৃষি ব্লকের পাশাপাশি তিনি ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন আকাবপুর ইউনিয়নে। আর উপজেলা কার্যালয়ে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি একজন; কিন্তু পদ দখল করে রেখেছেন তিনটি। তিনি পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দা।
সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭২টি লাইসেন্সকৃত কীটনাশকের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স প্রদান ও দোকান পরিদর্শন করেন তিনি। এর বিনিময়ে প্রতিটি দোকান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
বিধি অনুযায়ী কীটনাশকের ব্যবসা করতে হলে আলাদা দোকান কিংবা ঘর থাকতে হবে। কিন্তু মুরাদনগরে মুদি দোকানের পাশাপাশি অন্যান্য দোকানেও কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছেন মোশাররফ হোসেন।
এসব দোকান বেআইনিভাবে কীটনাশক বিক্রি করে। কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন তার আয়ের অন্যতম বড় উৎস। কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র নিজেই তৈরি করে দেন। পরে পরিদর্শনের নামে করা হয় ঘুস বাণিজ্য।
তিনি একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থেকে গড়ে তুলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট। টিসিবির কার্ড বিতরণে অনিয়ম, কৃষির প্রণোদনা যথাযথভাবে না দেওয়া, দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, দালালদের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্ধারণ, সঠিক উপকারভোগীকে বঞ্চিত করা এবং কতিপয় কৃষকের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কীটনাশক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের সব কাগজপত্র মোশারফ সরকার তৈরি করে দেন। আমাদের জেলা অফিসে যেতে হয় না। পরিদর্শন ও নবায়নের জন্য তিনি ঘুস নেন।
নবীপুর এলাকার কৃষক আমির হোসেন বলেন, কৃষি অফিসার মোশারফ হোসেন সরকারের নাম শুনেছি। কিন্তু তাকে কখনো মাঠে আসতে দেখিনি। কৃষির প্রণোদনা তিনি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা নিয়ে বিতরণ করেন।
জানতে চাইলে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন সরকার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে তিনটি পদের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। তাই আমি একসঙ্গে সব দায়িত্ব পালন করছি। আমি কোনো কীটনাশক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উৎকোচ নিই না এবং দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করি না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখব। অনিয়মে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
You cannot copy content of this page
আপনার মতামত লিখুন :