লক্ষ্মীপুরের রামগতির ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলা সদর আলেকজান্ডার মেঘনা নদীর পাড়ে অবস্থিত। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রায় তিন লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল। দীর্ঘদিন ধরে জুনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার, সহকারি সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে শতাধিক রোগীদের লাইন। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, তাদের কেউ চর্ম, মেডিসিন, গাইনী, চক্ষু, নাক-কান রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (কনসালটেন্ট) না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। এ সময় চর আলগী গ্রামের আতাহার হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীকে এনেছিলাম বিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে তাকে চিকিৎসা করাতে পারিনি। অন্য একজন চিকিৎসক দেখাতে হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার কথা রয়েছে। এ হাসপাতালটিতে হাসপাতালটিতে বর্তমানে বর্তমানে ইসিজি, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডেন্টাল ইউনিট, স্বাভাবিক। সিজার, অন্যান্য ছোট-খাটো অপারেশন, প্যাথলজি, ফার্মেসি, করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা, গর্ভবর্তী মা ও শিশুর জন্য এএনসি কর্নার ও ইপিআই বা টিকাদান কর্মসূচি ও ডায়েবেটিস সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এখান প্রেশার, ডায়াবেটিস, স্বাশ্বকটের রোগীদের ৩০ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। গর্ভবতী মহিলাদের ৩০ দিনের সকল ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে মোট ৩২ রকমের পরীক্ষা করানো হয় এবং ভর্তি রোগীদের জন্য ২৪ ঘন্টা পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া এই হাসপাতালে কুকুরের
কামড়ের ভ্যাকসিন এবং সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন অ্যান্টিভেনম এর ব্যবস্থা রয়েছে।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্সসহ ও অফিস সহকারী পিয়নসহ জনবল দরকার ১৩৬ জন। এর মধ্যে বর্তমানে রয়েছেন ৫৩ জন। বাকি ৮৩টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসকের ১১টি পদের মধ্যে ৫টি পদই শূন্য এর মধ্যে ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। মেডিসিন, সার্জারি, এনেসথেসিয়া, গাইনি ও ফিজিক্যাল মেডিসিনের ৫ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে সব পদ শূন্য। বর্তমানে এখানে মহিলা চিকিৎসক ডা. কামরুন্নাহারের পদায়ন থাকলেও ডিজি হেলথের আদেশে তিনি এটাচমেন্ট ঢাকা ডিএনসিসি হাসপাতালে কোবিড ডেডিকেটেড ইউনিটে কাজ করছে এবং এনেসথেসিয়া জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারীর পদায়ন থাকলেও গত দেড় বছরের বেশি তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিস মজুমদার বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকায় যথাযথ সেবা নিশ্চিত করাটা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে একজন মহিলা চিকিৎসক ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে এই মেঘনা উপকূলীয় প্রাচীন জনগণের স্বাস্থ্য সেবা পরিবর্তন আনা সম্ভব। নানা সংকট থাকায় রোগীর। রোগীর চাপ সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আশা করছি হাসপাতালের সকল শূন্য পদই অতিদ্রুত পদায়ন করা হবে। জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুতই কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে হাসপাতালের পাশে কয়েকটি ডায়গনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে তাদের কিছু দালাল প্রকৃ তির লোক হাসপাতলে ঢুকে রোগীদের নানা হয়রানি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি নামে এক শিশুর মরদেহ…
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…