মেহেরপুরে কমলা-মাল্টা চাষে চাষির মুখে তৃপ্তির হাসি


বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে কমলা। প্রতিটি গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে হলুদ ও সবুজ রংয়ের কমলা। কমলার ভারে নুইয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। বাতাসে ছড়াচ্ছে কমলার সুস্বাদু মৌ মৌ ঘ্রাণ। গাছের ডালে ডালে দোল খাচ্ছে চাষির স্বপ্ন, পাকা ও আধাপাকা কমলা। বাগান দেখতে ও কমলা কিনতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন মানুষজন।
বাগান ঘুরে খো গেছে, সারি সারি কমলার গাছ। হলুদ-সবুজ রঙের কমলা লেবুতে ছেয়ে গেছে পুরো বাগান। যা দেখে যে কারোরই মন ভরে উঠবে। কমলার সাথে আছে মাল্টাও। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা কসবা এলাকায় নুরুজ্জামান রুবেল নামের এক যুবক প্রথমে দশ কাঠা জমিতে কমলা ও মাল্টা বাগান করেন। গাছে ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় পরে সাড়ে সাত বিঘা জমিতে কমলা ও আড়াই বিঘা জমিতে মাল্টা বাগান করেছেন। রোপণের প্রায় চার বছরের মাথায় দেড় বিঘা জমির মাল্টা তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। দুই বছরের মাথায় অল্প ফল ধরলেও এ বছর পুরোপুরি সফলতা আসে। বর্তমানে যে পরিমাণ কমলা গাছে আছে তা প্রায় ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশাবাদী এই তরুণ। বাগানে রয়েছে চায়না, দার্জিলিং ও মেন্ডারিং জাতের কমলা ও মাল্টা এবং পেয়ারা।
বাগান খেতে আসা সজিব বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহাওয়া অনুকূল না হওয়ায় সাধারণত চায়না কমলার ফলন ভালো হয় না। কিন্তু আমাদের সে ধারণা পাল্টে েিয়ছে রুবেল ভাই। বাগানে প্রতিটি গাছে কমলার ফলন দেখে আমরা অভিভূত হয়েছি।
মনিরুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরের মাটিতে কমলা হচ্ছে এটা অবাক করার মতো। নিজ দেশে নিজ হাতে কমলা ছিড়ে খাওয়া আসলেও স্বপ্নের মতো।
ইউসুফ বলেন, বাগান খেতে এসেছি। সরাসরি আগে কখনও কমলা বাগান দেখা হয়নি। আজ বাস্তবে গাছে ঝুলন্ত কমলা দেখলাম। আর পুরো বাগানে কমলা ঝুলে রয়েছে। দেখতেই অনেক সুন্দর লাগছে। কমলা খেলাম, অনেক মিষ্টি ও রসালো। এই কমলা খেয়ে মনে হলো না যে আমার দেশের মাটিতে উৎপাদিত কমলা খাচ্ছি।
বাগান মালিক নুরুজ্জামান রুবেল বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে একটি বাগান দেখে নিজে বাগান করবো সিদ্ধান্ত নিই। ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কমলা ও সাখাওয়াত নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে মালটার চারা নিয়ে প্রথমে ১০ কাঠা জমিতে রোপণ শুরু করি। পরে ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে বাগান করি। বাগানে তিন জাতের সাড়ে ৭শ’ গাছ আছে। বাগানের বয়স প্রায় চার বছর হতে চলেছে। এবারই প্রতিটি গাছে প্রত্যাশার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ফল এসেছে। বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা বিক্রি হবে আশা করছি। ইতোমধ্যেই দেড় বিঘা জমির মালটা বিক্রি করেছি তিন লক্ষ টাকায়। একেকটি গাছ দেখলে মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। যখন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন কমলা বাগান দেখতে আসে তখন নিজেকে সফল কৃষক মনে হয়। এছাড়া ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নিজ জেলাসহ ঢাকাতে ফল পাঠানো হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের প্রতি অভিযোগ করে রুবেল বলেন, কৃষি অফিসের কেউই আসে না এবং পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা করে না। কৃষি বিভাগ যদি এই কমলা চাষের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয় তাহলে মানুষের মধ্যে কমলা লেবু চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভাবে কমলা লেবুর উৎপাদন বাড়বে।

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক

Recent Posts

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জরিপ

হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…

3 days ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যমুনার উদ্দেশে তারেক রহমান

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…

4 weeks ago

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাবে মাসিক দুই হাজার পাঁচশ টাকা প্রতিটি পরিবারঃ দুলু

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…

4 weeks ago

তারেক রহমানের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি, নেতৃত্বে সততা ও যোগ্যতার প্রতীক মাহমুদ হাসান খান বাবুর বৈঠক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…

1 month ago

আর কখনও যেন নির্বাচন ডাকাতি না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…

1 month ago

কুড়িগ্রামে দুদকের অভিযানে ২১ মেট্রিক টন ধান ও ৩৫ মেট্রিক টন চাল উধাওয়ের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…

1 month ago