বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক স্বৈরাচারের দোসর মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে প্রকাশ্যে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ থাকার পরও বহাল তবিয়তে
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই, এই দপ্তরে যেন প্রকাশ্যে ঘুষের কারখানা খুলে বসেছেন, ঘুষ ছাড়া বিআরটিএর কোন কার্যক্রম হয় না, সেবা নিতে হলেই টেবিলে টেবিলে দিতে হয় ঘুষ, ঠিক তেমনই নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ তে সিন্ডিকেট করে চলছে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন, মোটরযান পরিদর্শক- মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ সাইফুল কবীর,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা-মোঃ হেমায়েত হোসেন , কম্পিউটার অপারেটর- এস এম জুবায়ের আহমেদ, অফিস সহকারী- মো: শামীম রেজা, অফিস সহায়ক- মোঃ ফায়েজুর রহমান সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ার শরীফ, সুমন, রাসেল, রিয়াজ, আব্বাস নামের প্রভাবশালী কতিপয় দালাল। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান, তার বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগের পাহাড় ছিল কিন্তু অবৈধ অর্থের প্রভাবে সবকিছুই অদৃশ্য করে দেন তিনি, সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও তিনি শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে চালিয়ে যাচ্ছেন এই ঘুষ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে দালালদের সরকারি আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে অফিসের চেয়ার-টেবিলে বসিয়ে ঘুষসহ নানামুখী দুর্নতিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে উৎসাহিত করেন সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান। গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্স করতে গেলে ভোগান্তির শেষ থাকেনা সেবা নিতে আসা মানুষদের। সেইসাথে আছে তার সিন্ডিকেটভূক্ত দালালদের নির্লজ্জ দৌরাত্ম। মাহবুবুর রহমানের ইচ্ছে মতো টাকা দালালদের হাতে না দিলে কোনো কাজই হয় না এই অফিসে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কর্মকর্তা কর্মচারী সহ এই সিন্ডিকেট ডুবে আছেন দুর্নীতির মহা সাগরে। যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্্ মালিকালা বদল সহ যাবতীয় সেবা পেতে দিতে হয় প্রতি টেবিলে টেবিলে ঘুষ। অর্থ ছাড়া হয় না কোন কাজ, প্রতিদিন গ্রাহকের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, মোটরযান পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, সাইফুল কবির, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন, উচ্চমান সহকারী কর্মচারী পিয়ন ঝাড়ুদার সবাই জড়িত ঘুষ বাণিজ্যে এবং এই সব কিছুর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) মাহবুবুর রহমান তবে অর্থ লেনদেনের জন্য রয়েছে পাঁচ থেকে ছয় জনের একটি দালাল চক্র শরীফ সুমন রাসেল রিয়াজ আব্বাস মূলত এই দালাল চক্ররাই অর্থের লেনদেন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে পৌঁছে দেন ঘুষের টাকা এজন্যই কর্মকর্তা কর্মচারীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাহিরে। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নাম ব্যবহার করে মাহবুবুর রহমান নিজের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছেন। চাকরির শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর লাইসেন্স শাখা, রেজিস্ট্রেশন শাখা , ফিটনেস শাখা, মালিকানা বদল শাখা সহ প্রতিটি শাখায় দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিত ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে লাইসেন্স পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্সে ন্যূনতম ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছে দালাল শরীফ, সুমন, রাসেল, রিয়াজ, আব্বাস সহ একাধিক নিয়োজিত দালাল। তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট অফিসের একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারীর অভিযোগ, মাহবুবুর রহমান দালালদের সঙ্গে মিলে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট জালিয়াতি ঘুষ দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এমন একটি অভিযোগ এসেছিল স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক বিভাগের সচিব ও সকল গণমাধ্যম বরাবর কিন্তু অবৈধ অর্থ দিয়ে সেই ঘটনা তিনি ধামাচাপা দিয়েছিলেন সেই অভিযোগে উল্লেখ ছিল। এসএসসি দাখিল পরীক্ষার সার্টিফিকেট এ মাহবুবুর রহমানের জন্ম তারিখ ছিল ২ নভেম্বর ১৯৭৬ কিন্তু তার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ২০/০২/১৯৮৩ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৮৩৭৯১৮০৩৪১৭৪৯৮৪। আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সুপারিশের ২০১২ সালে বি আর টি এর বরিশাল অফিসে চাকরিতে যোগদান করেন, এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ঘুষ দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ করেছে তবে নিজেকে স্বচ্ছ রাখতে ও আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ গুলো নিজের পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামি করেছেন সেই অভিযোগ পত্রে উল্লেখ ছিল তার পিতা: মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ফকির। বোন: মোসা: রওশন আরা আক্তার রেহেনা, বোন: মোসা: তাহুরা আক্তার রিনা, বোন: মোসা: চাঁদ সুলতানা, ভাই: মেহেদী হাসান, স্ত্রী: মুনিয়া আক্তার, শশুর: পিন্টু জোয়ার্দার এবং বোনের স্বামী আরো বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, পিরোজপুর সদর থানার অন্তর্গত দেবুরকাঠি মৌজা, কলা খালি মৌজা, বাবলা কচুবুনিয়া, চল পুথুরিয়া মৌজা, ডাকাতিয়া মৌজা ও নাজিরপুর থানার সিরাম কাঠি মৌজা, জয়পুর মৌজা কাঠালতলা মৌজা সহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন আত্মীয়স্বজনের নামে। মাহবুবুর রহমানের ছোট ভাই কলেজ ছাত্রের নামেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। অনুসন্ধানে জানা যায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিজেদেরকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শেখ হাসিনার প্রিয়জন পরিচয় দিয়ে তারা কর্মস্থলগুলোতে স্ব-স্ব ক্ষমতার বলয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি সিন্ডিকেট। জনশ্রুতি আছে জুলাই আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলন দমন করতে বিআরটিএর এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিরাতে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে করতেন গভীর শলাপরামর্শ। আর ছাত্র আন্দোলন দমাতে লক্ষ লক্ষ টাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের মাঝে বিতরণ করেন। তবে ৫ই আগষ্ট পট পরিবর্তনে শেখ হাসিনা দিল্লি পালিয়ে গেলে এরা টানা প্রায় ৩ সপ্তা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তবে কিছুদিন পর সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকলে আস্তে আস্তে এঁরাও মাটি ফুঁড়ে বের হতে থাকে। এরপর সপ্তাহ দুই ফেরেস্তা সেজে থাকলেও এখন আবারো শেখ হাসিনার দোসর এই চক্র পূর্বের ন্যায় স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে এদের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কারো ফোন বন্ধ কেউ কেউ কলটি রিসিভ করেননি। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী জনতা |