বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল ৩ এর মোটরযান পরিদর্শক নাজমুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: ক্যাশ কালেকশন করেন জীবন,মতি, দুলাল ও সোহাগসহ একাধিক নিয়োজিত দালাল
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা, দিয়াবাড়ী) অফিস দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ–দুর্নীতি, দালাল সিন্ডিকেট এবং অবৈধ প্রভাবের কারণে ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে অনেক আগে থেকেই। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নাম ব্যবহার করে নাজমুল হাসান নিজের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছেন। চাকরির শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। উত্তরা দিয়াবাড়ীর লাইসেন্স শাখায় দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিত ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে লাইসেন্স পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্সে ন্যূনতম ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছে দালাল মতি, দুলাল ও সোহাগসহ একাধিক নিয়োজিত দালাল। তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট অফিসের একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারীর অভিযোগ, নাজমুল হাসান দালালদের সঙ্গে মিলে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মো. আনিসুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নাজমুল হাসান (জন্ম ২৬ আগস্ট ১৯৮৫, জাতীয় পরিচয়পত্র নং–৮৬৮৯২৮৩৭৩০, টিআইএন নং–৭৮৬৭৩০২২৮৯১৩) টাকার বিনিময়ে প্রতিটি লাইসেন্স পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছেও রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্নীতির টাকায় নাজমুল হাসান ঢাকায় একাধিক বাড়ি, কয়েকটি ফ্ল্যাট, দুটি প্রাইভেট কার এবং একাধিক বাসের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালী–ঢাকা রুটে চলাচলকারী পরিবহন ব্যবসায়ও তিনি বিনিয়োগ করেছেন। এমনকি এনা পরিবহনের মালিক এনায়েত উল্লাহ খানের সঙ্গে অংশীদারিত্বেও গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, বিআরটিএর প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা উচ্চপদস্থদের ‘ম্যানেজ’ করে বহাল তবিয়তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিআরটিএ। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমএলএসএস মাহবুবের সহায়তায় তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিতেন। দুর্নীতির দায়ে মাহবুবকে রাঙ্গামাটিতে বদলি করা হলেও নাজমুল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন মহল মনে করছেন, নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তার অবৈধ সম্পদ ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে নাজমুল হাসানের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। র্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী জনতা |