বরগুনা সদর উপজেলার ৫ নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইটবারিয়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে স্ত্রীর গলাকাটা ও স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার ৫ নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইটবারিয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া গ্রামের মৃত: আঃ খালেক মোল্লার ছেলে স্বপন মোল্লা (৩২) ও একই গ্রামের আব্বাসের মেয়ে আকলিমা (২৮)।
এ সময় ঘরে নিহত এই দম্পতির ৫ বছর ও ১ বছর বয়সী ২টি কন্যা শিশু সাদিয়া ও আফসানাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত স্বপন মোল্লা পেশায় একজন সেনিটারি মিস্ত্রির কাজ করতেন।
নিহত স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগম বলেন, ভোরে ঘুম থেকে ওজু করতে নামলে বড় মেয়ে সাদিয়া দৌড়ে এসে বলে, আম্মি মোগো ঘরে চলেন মা কথা বলে না, আব্বাকেও দেখি না। এ সময় রাজিয়া তাদের ঘরে গিয়ে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় আকলিমার গলাকাটা লাশ এবং ঘরের আড়ার সাথে স্বপনকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
নিহত স্বপনের বড় ভাই কবির মোল্লা বলেন, আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু নেই। তবে স্বপনের নিয়মিত কাজ না করা নিয়ে মাঝে মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।
নিহত আকলিমার বাবা আব্বাস বলেন, আমার জামাই স্বপন আমার জমিতে গত কাল সকালে আমার সাথে ধান কাটে। স্বপনের কোন শত্রু ছিল না, কোন রাজনৈতিক দলের সাথেও ছিল না। হয়তো পারিবারিক দন্ধের কারনে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ দুটির ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করতেছে। স্বপন ও আকলিমার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ জহিরুল হক বলেন, স্বপন দিনমজুরি কাজ মাঝে মাঝে করত। আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। আমরা তদন্ত করব। তদন্ত করার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ নিহত এই দম্পতির ২টি কন্যা শিশু সাদিয়া ও আফসানাকে দেখবাল করার জন্য তার নানা ও চাচা, চাচিকে দায়িত্ব দিয়েছে।