তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে, নাসির উদ্দিন সাথী মাই টিভির প্রকৃত মালিক নন। বিলকিস জাহান নামের এক নারীর কাছ থেকে জাল-জালিয়াতি ও পেশিশক্তি দেখিয়ে মাই টিভি দখল করে নেন। পতিত সরকারের কজন মন্ত্রী ও নেতার সহযোগিতায় নাসির উদ্দিন সাথী প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। বাবার সহযোগিতায় ছেলে আফ্রিদিও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
সিআইডির ওই কর্মকর্তা আরো জানান, বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাই টিভির আগের কর্ণধার বিলকিস জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। বিলকিস জাহান গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠার পরই তাঁর কাছ থেকে অবৈধভাবে সেটি দখল করে নেন তাঁরা।
টিভি চ্যানেল দখলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদি জানান, এটা তাঁর বাবা জানেন। তাঁর জানা নেই।
সিআইডির ওই কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদি ও তাঁর বাবার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব যাচাই-বাছাই করে সত্যতা মিললে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হবে।
২০১৫ সালে ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে যাত্রা শুরু তৌহিদ আফ্রিদির। অনেক নায়িকা ও মডেলের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করতেন অফ্রিদি। অনেক ছবিতে তাঁদের রোমান্টিক ভঙ্গিতে দেখা যেত। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে তাঁর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়।
সিআইডি বলছে, তৌহিদ আফ্রিদি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন মো. জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ও তাঁর বাবা নাসির উদ্দিন সাথীসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় এজাহারনামীয় ১১ নম্বর আসামি তৌহিদ আফ্রিদি।
সিআইডি বলছে, এরই মধ্যে আফ্রিদির কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ম্যাকবুক (তিনটি ডিভাইস) ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। এতে তাঁর অপরাধ জগতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান কালের কণ্ঠকে জানান, আফ্রিদির অপকর্মের শেষ নেই। তদন্তে তাঁর অপকর্মের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সিআইডি বলেছে, অপরাধ জগতে আফ্রিদির শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ভুক্তভোগীরা ওই সিন্ডিকেটের নাম দিয়েছে ‘গিভ অ্যান্ড টেক সিন্ডিকেট’। কেউ ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি কিংবা গুমের ভয় দেখানো হতো।
গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তৌহিদ আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত এক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর মুখোশের আড়ালে তাঁদের অপরাধ জগতের রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে। জানা যায়, তৌহিদ আফ্রিদি ছিলেন সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের মধ্যমণি। সিআইডির ভাষ্য, পতিত সরকারের আমলে নারী সরবরাহ, চাকরি বাণিজ্য, মাদক কারবারসহ অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন তৌহিদ আফ্রিদি। ভুক্তভোগীরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করছে।