লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ নাজির সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে আজ চরম বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। একসময় সলিং করা হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মেঘনার জোয়ারের পানির চাপে সড়কের অন্তত ১০-১২টি স্থান ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সলিং বিলীন হয়ে চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি।
প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে রিকশা বা অ্যাম্বুলেন্স সড়কটিতে চলাচল করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সরেজমিন চিত্র
নাজির সড়কটি দিয়ে মাওলানা পাড়া, আব্দুল মালেক হাওলাদার পাড়া, হাজি ইসমাইল মাস্টার পাড়া সহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে এ সড়কের পাশে অবস্থিত তাবলিগ জামাতের মারকাজ মসজিদে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুসল্লি নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু সড়কের বর্তমান করুণ অবস্থার কারণে যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচল হয়ে পড়েছে প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফলকন মারকাজ মসজিদ সংলগ্ন হাজিরহাট থেকে মাতাবব্বর হাট পাকা রাস্তার মাথা হয়ে দক্ষিণে লুধুয়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত নাজির সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০০ মিটার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়কটিতে সলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই মেঘনার প্রবল জোয়ারে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আজ পুরো সড়কটিই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
এলাকার বাসিন্দা হাজী ইসমাইল মাস্টার বলেন,
“এটা আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা। স্কুল, কলেজ, বাজার, হাসপাতাল—সব জায়গায় যেতে এই রাস্তার উপরেই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এখন চলাফেরা করাটা দুঃসহ হয়ে উঠেছে।”
শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন,
“প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাদা ও ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়।”
চিকিৎসা নিতে যাওয়া মোঃ ইব্রাহিম বলেন,
“জরুরি অবস্থায় রিকশাও আসে না। পায়ে হেঁটে কাদা-মাটি মাড়িয়ে হাসপাতালে যেতে হয়।”
৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মিজানুর রহমান মান্না অভিযোগ করে বলেন,
“জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই সড়কটির এই বেহাল দশা।”
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বক্তব্য
চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বাগা বলেন,
“সড়কের দুর্ভোগের বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আগামী প্রকল্পে এই সড়ক সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান জানান,
“নাজির সড়কটি গ্রামীণ সড়কের আওতাভুক্ত হলে চলতি অর্থবছরেই সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। আর যদি এটি এলজিইডির আইডিভুক্ত হয় তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে নাজির সড়ক সংস্কার করে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…
বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…