ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। অন্যদিকে অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।
মূলত গাজায় ইসরাইলের অভিযান আরও তীব্র হয়েছে এবং গাজা নগরীতে হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা নগরীতে আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে। পুরো মহল্লা-মহল্লা ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আর কোথাও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এর মধ্যেই ইসরাইলি অবরোধ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
মঙ্গলবার গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলে একটি জনবহুল বাজারে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আল-আহলি আরব হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই নারী ছিলেন।
আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলি হামলার মুখে উত্তর গাজার আস-সাফতাওয়ি এলাকা থেকে মানুষ পালাচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জোর করে দক্ষিণ দিকে ‘কনসেন্ট্রেশন জোনে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরাইল।
ছবিগুলোতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে ভরা ধুলোমাখা রাস্তায় লম্বা সারি বেঁধে হাঁটছে নারী-পুরুষ-শিশুরা। কারও হাতে ব্যাগ, কম্বল, খাটিয়া, কেউ ঠেলাগাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে সামান্য জিনিসপত্র, আবার কেউ ছোট ছোট বাচ্চাদের হাত ধরে হাঁটছে।
প্যালেস্টাইনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে গাজা নগরীর জায়তুন ও সাবরা এলাকায় এক হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল।
গাজা নগরীর বাসিন্দা ও লেখক সারা আওয়াদ বলেন, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে প্রতিদিন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে— নিজ ঘরে থেকে অবিরাম বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নেবে, নাকি আবারও উদ্বাস্তু হবে। তিনি বলেন, আমি সব সময় ভাবি, কেন আমাকে পালিয়ে গিয়ে তাঁবুতে থাকতে হবে, অথচ আমার ঘর তো এখানেই? প্রতিদিন দেখি পরিবারগুলো ঘর ছাড়ছে, অথচ তাদের যাওয়ার জায়গা নেই।
আল জাজিরাকে হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন নিহত হয়েছেন সাহায্যের আশায় লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমর্থিত জিএইচএফ চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর (ওসিএইচএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে— গাজা উপত্যকায় ক্ষুধা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং জরুরি সেবাগুলো ভেঙে পড়ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন, ফলে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে, যার মধ্যে ১১৭ জনই শিশু।
হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…
বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…