জলের বুকে ছুটে চলা নৌকা, তালে তালে দাঁড় আর দর্শকের উল্লাস। সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত উৎসব ‘নৌকা বাইচ’।
নদী দূষণ রোধ করি, নির্মল বাংলাদেশ গড়ি-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার বিকালে মানিকগঞ্জের বেউথা কালীগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো এক জমজমাট নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করে সব বয়সী হাজারো দর্শক। কেউ উৎসাহ দেন প্রিয় দলকে, কেউ উপভোগ করেন নদীর বুকচিরে ছুটে চলা নৌকার ছন্দ। প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অন্তত্ব ৩২ টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকার দল তাদের দক্ষতা, কৌশল এবং সমন্বয় প্রদর্শন করে। প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ ছিল দ্রুততম নৌকাকে শনাক্ত করে বিজয়ী ঘোষণা করা।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা ষাটউর্ধ্ব কমর আলী জানান, আগে ছোট বেলায় অনেক নৌকা বাইচ দেখতাম।কিন্তু এখন আর আগের মতো আয়োজন হয় না।অন্তত্ব ১০ বছর পর নৌকা বাইচ দেখতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
৮ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছিলেন তানিমা আক্তার। জানান, আগে মায়ের সঙ্গে নৌকা বাইচ দেখতে যেতাম।আজ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমি এসেছি। ছেলেটা প্রথমবারের মতো নৌকা বাইচ দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছে। এমন আয়োজন প্রতিবছরই হওয়া প্রয়োজন।কারণ এটি আমাদের ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্ম এ সম্পর্কে জানতে পারবে।
নাজমুল হোসেন নামে আরেকজন জানান, জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য। মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে নৌকা বাইচের আয়োজন থাকলেও এটি স্মরণীয়। এতো বড় নৌকা বাইচের আয়োজন আগে কখনো হয়নি।
টাঙ্গাইল থেকে নৌকা বাইচ দিতে আসা এক প্রতিযোগী জানান, তারা যেখানে বাইচের সংবাদ পান সেখানেই অংশ নেন। এক সঙ্গে অনেক নৌকার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন। কখনো বিজয়ী হন কখনো হতো পারেন না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতেই তারা এখনো নৌকা বাইচ দেন।
অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবার বর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন জানান, নৌকা বাইচ দেখতে লাখো মানুষ জড়ো হন।এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়। সাদাপোশাক ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবও দায়িত্ব পালন করেছে।এ আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, জেলাবাসীর একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, ‘নদী দূষণ রোধ করি, নির্মল বাংলাদেশ গড়ি’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।আমরা চাই সচেতনতা ও বিনোদনের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐত্যিকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে। নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচায়ক।দর্শকরা আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসাবে একটি মোটরসাইকেল প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা আশা প্রকাশ করেন এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও চালু থাকবে, যাতে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক মিল দৃঢ় হয়।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…