ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী এমপি আনার হত্যা মামলার আসামী ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর ক্যাশিয়ারখ্যাত আওয়ামীলীগের দোসর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ পৌরসভা থেকে সাধারণ নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারাই এখনও পৌরসভার বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন। সেবা নিতে গিয়ে এখনও পদে পদে দিতে হচ্ছে ঘুষ আর হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও গত ১৫ বছর ধরেই দায়িত্বে আছেন তিনি।
বিভিন্ন গনমাধ্যমে তার দূর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পৌর-১ শাখা পাবনার সাথিয়া পৌরসভায় কামাল উদ্দিন কে বদলির আদেশ দেয়, কিন্তু কোনো এক অশুভ শক্তির বলে ঘুরেফিরে আবারো তিনি ঝিনাইদহ পৌরসভায় যোগদান করে এখনো বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এক হাসিনার পতন হয়ে কোনও লাভ নেই। হাসিনার অনুসারীরা অনেকেই এখনও পৌরসভায় চাকরি করছে। আগের মতোই তারা এখনও সিন্ডিকেট তৈরি করে নাগরিকদের হয়রানি করেই যাচ্ছে। পৌরসভা থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের এখনই সরাতে করতে হবে।’
এদিকে, আনারুজ্জামান আজাদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে গত ১৮ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঝিনাইদহ পৌরসভার বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন দীর্ঘ ১৮ বছর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনীত বিনা ভোটের মেয়রের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন। তিনি অবৈধভাবে পৌরসভার রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ না করে বিনা ভোটের মেয়রের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইতোপূর্বে সাধারণ জনগণ কোনও অভিযোগ করার সাহস পাননি।
পৌর মেয়র আর পৌরসভার আর কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তি। ৬ষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা হলেও তিনি বর্তমানে থাকেন কয়েক কোটি টাকার বাড়িতে।
কুষ্টিয়া শহরের হানিফনগর এলাকার ৩ তলা বাড়ির আনুমানিক মুল্য কয়েক কোটি টাকা। এছাড়াও ঝিনাইদহের মহিষাকুন্ডু ভিআইপি রোড, শৈলকুপায় জমিসহ বাড়ি, ঢাকায় নিজস্ব ফ্লাট রয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
বছরের পর বছর ঝিনাইদহ পৌরসভায় চাকুরী করার কারণে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকৌশলী কামাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দুপুর গ্রামে। কিন্তু তিনি শৈলকুপা পৌরসভার ঠিকানা ব্যবহার করে ১৯৯২ সালে শৈলকুপা পৌরসভায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরী জীবনে তার বেতন ছিলো ৩ হাজার ৭’শ ২৫ টাকা। ১৯৯৮ সালে শৈলকুপা পৌরসভা থেকে যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় বদলি হন কামাল উদ্দীন। এরপর বদলি হয়ে চলে আসেন ঝিনাইদহ পৌরসভায়। এতেই যেন তিনি পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর আস্থা ভাজন হয়ে উঠেন কামাল উদ্দীন। তার আশীর্বাদে পদন্নোতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়ে যান কামাল উদ্দীন। সেই থেকে খোলেন তার দুর্নীতি আর অর্থ আত্মসাতের খাতা।
পৌরসভার একাধিক সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সোলার লাইট প্রকল্পের দুই কিস্তির ৭ কোটি টাকা হরিলুট করেছেন তিনি। নিয়মিত রোলার গাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও তার অর্থ সঠিক ভাবে জমা দেওয়া হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, সাবেক মেয়র কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজলের সময়ে ৪৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করা হয়। সেই প্রকল্পের টাকার ৩% ঘুষ নিয়েছেন প্রকৌশলী কামালসহ আরও দুই কর্মকর্তা। এছাড়াও পৌর সভার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ করে অধিকাংশ কাজ দেন সাবেক মেয়র হিজলের নিকট আত্মীয় কুমার খালির ঠিকাদার নাঈমকে। এর বিনিময় কামাল উদ্দীন তার কাছ থেকে আর্থিক ভাবে সুযোগ সুবিধা নিতেন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, মেয়র হিজলের সময়ে প্রতি মাসে পৌরসভার বৈদ্যুতিক বাল্ব ক্রয়ের কথা বলে ১৫ থেকে ২২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। যার প্রায় সব টাকায় আত্মসাৎ করেছেন কামাল।
এদিকে ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে উপসচিব (পৌর-১) এর নিকট আনারুজ্জামান জাহিদ নামের এক পৌর নাগরিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী আনারুজ্জামান জাহিদ বলেন, একজন ৬ষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। তার বেতন মাসে ১ লাখ টাকা হলেও কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব না যদি সে দুর্নীতি না করেন। প্রকৌশলী কামাল হোসেন পৌরসভার সকল দুর্নীতির মুল হোতা। তার এই সম্পদের আয়ের উৎস খুজে বের করতে হবে। আর পৌরসভার বিগত দিনের বাস্তবায়নকরা প্রকল্পের টাকা কিভাবে ব্যায় হয়েছে তার তদন্ত করলেই মুল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অনুসন্ধানে জানা যায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর প্রিয়জন পরিচয় দিয়ে কর্মস্থল স্ব ক্ষমতার বলয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি সিন্ডিকেট।
জনশ্রুতি আছে জুলাই আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলন দমন করতে প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন প্রতিরাতে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে করতেন গভীর শলাপরামর্শ। আর ছাত্র আন্দোলন দমাতে লক্ষ লক্ষ টাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের মাঝে বিতরণ করেন।
তবে ৫ই আগষ্ট পট পরিবর্তনে শেখ হাসিনা দিল্লি পালিয়ে গেলে প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন টানা প্রায় ২ সপ্তা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান।
তবে কিছুদিন পর সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকলে আস্তে আস্তে এঁরাও মাটি ফুঁড়ে বের হতে থাকে। এরপর সপ্তাহ দুই ফেরেস্তা সেজে থাকলেও এখন আবারো শেখ হাসিনার দোসর এই চক্র পূর্বের ন্যায় স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী কামাল উদ্দিনের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী জনতা |
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ধর্ষণের…
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…