সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ভূমি অফিসে জায়গাজমির জটিলতায় পড়লে ভূমির পরিমাপে সার্ভেয়ার রিপোর্ট এবং নামজারি খতিয়ান সৃষ্টির জন্য আবেদন করলে ভূমির মালিকের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখে জনগণকে গণহয়রানির অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা- সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলামকে বিরুদ্ধে।শাহজাদপুর ভূমি অফিসে জাকিরুল ইসলাম দায়িত্ব নেবার পর উপরি আয়ের নেশায় উন্মাদ হয়ে একের পর এক অনিয়ম করেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।দুর্নীতি, ঘুষ-বানিজ্য সহ নানাবিধ অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, অনেকের ভূমির নামজারির আবেদন এবং সার্ভেয়ার রিপোর্টের জন্য আবেদন করলে কোনো কারণ ছাড়াই বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অফিসের অসাধু সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলামের সাথে মোটা অংকের চুক্তি করে কাজ করতে হচ্ছে।
বেতন মাত্র ৩০ হাজার টাকার কম হলেও গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন সহ গড়েছেন সম্পদ, শুধু নিজের নামে নয় স্ত্রী, শ্যালক ও ভায়রাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়ায় এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। একজন সার্ভেয়ার জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেডের কর্মচারী। যার বেতন সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। তবে এত সম্পদ কীভাবে হল তার?
অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের অসাধু সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলাম অথবা তার নিয়োগকৃত দালালদের মাধ্যমে টাকার চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইলে স্বাক্ষর হয় না।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলামকে দেওয়া উৎকোচের টাকা ফেরত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন করে এক ভুক্তভোগী।উপজেলার করশালিকা গ্রামের আব্দুল হাই সরকারের ছেলে মো. গোলাম হোসেন এ আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের টাকায় উপজেলার করশালিকা এবং চরধুনাইল গ্রামের রাস্তা নির্মাণের জন্য নদী খননের বালুর প্রয়োজন হয়। এজন্য শাহজাদপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাকিরুল ইসলামের কাছে গ্রামবাসীর পক্ষে শরণাপন্ন হন মো. গোলাম হোসেন। একপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে গ্রামবাসীর পক্ষে প্রতিবেদন দিতে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলাম।
বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় গ্রামবাসীর রাস্তার প্রয়োজনে প্রতিবেদন পক্ষে নেওয়ার জন্য মো. গোলাম হোসেন ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দেন। কিন্তু উৎকোচ দিয়েও ভূমি অফিস থেকে গ্রামবাসীর পক্ষে প্রতিবেদন না দেওয়ায় উৎকোচের টাকা ফেরত চেয়ে গত ২৯ এপ্রিল শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের কাছে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম হোসেন।
বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে সরকারি খাস ভূমিও ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেয়। এক্ষেত্রে কয়েক লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়ে থাকে।
তারা আরো জানান, দালাল ছাড়া সরাসরি তদরির করে নামজারি খতিয়ান মেলে না। কেউ সরাসরি তদবির করলে তাকে বিভিন্ন ছল-চাতুরির মাধ্যমে ঘুরিয়ে হয়রানি করে থাকে। অনেক সময় নথি গায়েবের ঘটনাও ঘটেছে।
শাহজাদপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলামের ৩-৪ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এ সিন্ডিকেটটি এভাবে অনিয়ম ও অবৈধ পন্থায় নামজারি খতিয়ানে ব্যবস্থা করে লোকজন থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ভূমি অফিসের প্রসঙ্গে শাহজাদপুর সদরের ৩নং ওয়ার্ডের চরধুনাইল এলাকার ফরিদ উদ্দীন বলেন, শাহজাদপুর ভূমি অফিসে নামজারি খতিয়ান দেয়া নাকি বন্ধ, বর্তমান যে এসিল্যান্ড উনি নাকি জায়গা জমির বিষয় বুঝে না, যেটাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয় সেটা ছাড়া কোন ফাইলই ধরছে না বলে বিষয়টি ভূমি অফিসের অফিস স্টাফরা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন জানান, তার এলাকায় নদী খননের বালি নিয়ে চলছে হরিলুট। প্রশাসনের কেউ কেউ হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। অথচ জনগণের নিজস্ব টাকায় নিজেদের চলাচলের রাস্তা তৈরি করার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এখন ঘুষের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ইউএনওর কাছে আবেদন করলেও ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসিল্যান্ডকে।
এ বিষয়ে কথা বলতে জাকিরুল ইসলামের নাম্বার এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো রেসপন্স করেননি।
অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী সাধারণ জনগণ।
হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…
বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…