চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষ্মীপুর এলাকায় মাদকের বিষবাষ্পে নীল হচ্ছে জনপদ। প্রথম পর্বে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিলেও আবারও স্বরূপে ফিরেছে কুখ্যাত মাদক সম্রাট দলকা-লক্ষীপুর আওলাদপাড়ার ওমর আলীর ছেলে ওসমানের ইয়াবা সিন্ডিকেট। এবার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—ওসমানের এই মরণঘাতী সাম্রাজ্যের খুঁটির জোর কোনো সাধারণ অন্ধকার জগৎ নয়, বরং খোদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতার ‘অদৃশ্য’ ছত্রছায়া।
সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক বিরতি, আবারও ‘ওপেন হাট’:
গত দুই সপ্তাহ আগে ওসমানের মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভয়ে ওসমানের সিন্ডিকেট কিছুদিনের জন্য তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। কিন্তু সেই শান্তি ছিল মাত্র কয়েক দিনের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক দিন নীরব থাকার পর আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই চক্র। এখন আর লুকিয়ে নয়, বরং দলকা লক্ষ্মীপুরের রাস্তার ধারে প্রকাশ্য দিবালোকে বসছে ইয়াবার ‘ওপেন হাট’। উঠতি বয়সী যুবকদের মাধ্যমে ওসমানের এই বিষ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামে।
ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও কার খুঁটির জোর?
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে যখন শুদ্ধি অভিযান চলছে, তখন এই এলাকায় চিত্র ভিন্ন। ওসমানের নেপথ্যে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সেই দুই প্রভাবশালী নেতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, তারা পর্দার আড়ালে থেকে ওসমানকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এলাকার মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ সরকার না থাকলেও তারা কার আশ্রয়ে বা কার খুঁটির জোরে এই মাদক সাম্রাজ্য এখনো টিকিয়ে রেখেছেন?
পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই ইয়াবার মহোৎসব: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দলকা লক্ষ্মীপুর গ্রামের দুই পাশে দুটি পুলিশ ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাস্তার ধারে এই মাদক কারবার চলে, তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক নির্মূলের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পরেও স্থানীয় পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে—এই মহোৎসব কি আসলেই পুলিশের অগোচরে, নাকি অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে এখানে?
মজুরি থেকে কোটিপতি: অলৌকিক উত্থান!
ওসমান, যিনি কয়েক বছর আগেও ছিলেন একজন সাধারণ দিনমজুর কৃষক, যার নুন আনতে পান্তা ফুরাত, সেই ওসমানের এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। রাজকীয় দ্বিতল বাড়ি আর বিলাসবহুল জীবনযাপন—সবই এসেছে যুবসমাজকে ধ্বংস করা ইয়াবার কালো টাকা থেকে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার রহস্য এখন আর গোপন কিছু নয়।
আসছে তৃতীয় পর্ব: মুখোশ খুলবে রাঘব বোয়ালদের
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওসমানের এই সিন্ডিকেট এখন শুধু দলকা লক্ষ্মীপুরেই সীমাবদ্ধ নেই। একই গ্রামের মাঝপাড়ার আর এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মাধ্যমেও মাদক ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, আগামী তৃতীয় পর্বে এই দুই প্রভাবশালী নেতা এবং মাঝপাড়ার সেই কুশীলবের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসীর আকুতি:
মাদকের এই মরণ কামড় থেকে নিজেদের সন্তানদের বাঁচাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অতি দ্রুত এই ওসমান এবং তার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যাবে একটি পুরো প্রজন্ম।
বি.দ্র.: ওসমানের মাদক কারবারের নেপথ্যে থাকা সেই দুই প্রভাবশালী নেতার পরিচয় এবং তাদের অবৈধ অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আগামী তৃতীয় পর্বে।