ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে তিনি। অথচ সেই নিজের ঘরেই হেরে গেলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়ে পরাস্ত হয়েছিলেন তিনি। এবার মমতার আসনেই তাকে হারালেন বিরোধী দলীয়নেতা শুভেন্দু।
মমতা নিজের আসন ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজোবোন’ বলে সম্বোধন করেন। পাঁচ বছর আগে এই নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে তার ভরাডুবি হয়েছিল। এবার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও হারলেন তিনি। এবারও হারালেন সেই শুভেন্দুই। নন্দীগ্রাম আসনে পাঁচ বছর আগে ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার হারালেন ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে।
ভবানীপুরের আগেই নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়ে যায়। সেখানে মমতাকে হারিয়ে আগেভাগে এক কদম এগিয়ে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তারপর ভবানীপুরের ফল ঘোষণা হতেই দেখা গেল, এখানেও ছয় হাঁকিয়েছেন বিরোধী দলীয়নেতা।
ভবানীপুর আসনে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু বলেন, যারা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাদের প্রতি উৎসর্গ করলাম। মমতা ব্যানার্জিকে হারানো খুব দরকার ছিল। এবার তার রাজনৈতিক সন্ন্যাস হয়ে গেছে।
সোমবার গণনাপর্বের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, সেই আভাস মিলেছিল সকাল থেকেই। তবে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে পশ্চিমবঙ্গের তাজ মাথায় পড়েছে বিজেপি। টানা চেষ্টায় এতদিন এই রাজ্যে ঝাণ্ডা গাড়তে পারছিল না গেরুয়া শিবির। তবে এবার দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেলেন শুভেন্দু।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে বিজেপি ২০৬, তৃণমূল ৮১ এবং সিপিএম, কংগ্রেস ও অন্যান্যরা পেয়েছে ৬ আসন। ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, তাই সেই আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি।