টাঙ্গাইল জেলার মধ্যবৃত্ত ঘরের সন্তান সাভারের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ১৬-০৮-২০১৭ তারিখে জামালপুর( বকশিগঞ্জ) উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি জীবন শুরু করে এরপর লক্ষীপুর (কমলনগর), সিলেট (ফেঞ্চুগঞ্জ) ও হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন সব মিলিয়ে মাত্র ৯ বছরের চাকরি জীবন । অথচ এই অল্প সময়েই দুর্নীতির সংজ্ঞাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাভারের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়া এবং পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাভারে আসার আগে জাকির হোসেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এক অদৃশ্য জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তিনি সাভারের মতো ‘হেলদি’ (দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত) স্টেশনে বদলি হন। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমকে ৩ কোটি টাকা দিয়ে এই বদলি নিশ্চিত করেন তিনি। শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি বানিয়াচং হওয়ায় সেখানে কর্মরত থাকাকালীনই মাসুমের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন জাকির। সেই ‘ঘনিষ্ঠতা’ এবং ‘বিনিময়’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সাব-রেজিস্ট্রার সমিতির নেতাদের অবাক করে দিয়ে সাভারে পদায়ন পান তিনি।
জাকির হোসেনের মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকার কম হলেও তার জীবনযাত্রা এবং অর্জিত সম্পদ রূপকথাকেও হার মানায়। গত এক বছরে তিনি নিজের, স্ত্রী মনিরা সুলতানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ গড়েছেন।
ব্যাংক লেনদেন: জাকির ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে গত এক বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থাবর সম্পদ: ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন তিনি। বাবা, মা, ভাই ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামেও এসব সম্পদ কেনা হয়েছে।
জাকিরের বিরুদ্ধে রয়েছে চরম অপেশাদারিত্ব ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ। নিয়মিত দুপুরের খাবারের পর অফিস কক্ষে বসেই তিনি ‘বাবা’ বা ইয়াবা সেবন করেন বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। মাদক সেবনের পর প্রায়ই তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং তুচ্ছ ঘটনায় অফিসের কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। তার এই উগ্র আচরণের কাছে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাধারণ কর্মচারীরা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জাকির হোসেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্র হত্যার মামলার একজন অভিযুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সরকারের এমন সংবেদনশীল পদে বহাল আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জাকিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলেও রহস্যজনক কারণে তা থমকে আছে। অভিযোগ আছে, অঢেল অর্থের জোরে তিনি তদন্তকারী সংস্থাকেও ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছেন। দুদককে অর্থ দিয়ে ক্লিনশিট নেওয়ার যে কালচার তৈরি হয়েছে, জাকির সেই পথেই হাঁটছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিতরেই তিনি ঢাকাতেই কয়েক কোটি টাকা বাড়ি,ফ্লাট,এলাকায় জমি কিনেছেন। যা জেনেও থামাতে ব্যর্থ হয়েছে দুদক। ইনফ্যাক্ট, টাকা দিলে দুদক থেকে ক্লিনশিট পাওয়ার নজির ভুরিভুরি। জাকিরের বিরুদ্ধে চলমান দুদকের অনুসন্ধানও থমকে রয়েছে। কারণ তারা ম্যানেজড।
সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন খুনের মামলার আসামি এবং মাদকাসক্ত কর্মকর্তার এমন বেপরোয়া দুর্নীতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই ‘জাকিরনামা’র শেষ কোথায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তার এই অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে সাব রেজিস্ট্রার জাকিরের নাম্বারে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি৷
(চলবে… পরবর্তী পর্বে থাকছে জাকিরের বেনামি সম্পদের আরও বিস্তারিত তথ্য)
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়…
রাহাদ সুমন,বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সোনাহার-সাকরাল গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সাত দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয়…