চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে শত শত সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনায় উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
এর কারণ যখন বিএনপির ক্রান্তিকাল তখন শক্ত অবস্থানে বিএনপির হাল ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন মনিরুজ্জামান মনির। ক্রান্তিকালে হামলা মামলার শিকার হবার ভয়ে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির বিএনপির কিছু নেতা হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতো। এমনকি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে দ্বিধা করতো কিছু বিএনপি নেতা। কিন্তুমনিরুজ্জামান মনির কখনই হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেনি। তিনি সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে শক্ত অবস্থানে থেকে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারী হিসেবে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে যা করার প্রয়োজন ছিলো তা তিনি করেছেন। প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ করেছেন। সেই সাথে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে ফেরারি জীবন বেছে নিতে হয়েছে । এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে অধিকাংশ সময় আদালতের বারান্দায় সময় কাটাতে হয়েছে মনিরুজ্জামান মনিরকে। হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমও তাকে দাবিয়ে রাখতে পারিনি। দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আস্থার ঠিকানাই ছিল মনিরুজ্জামান মনির চেয়ারম্যান। এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দল থেকে বহিষ্কার ঘটনা ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
মনিরুজ্জামান মনির চেয়ারম্যান ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করার পর ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় সম্ভাবনাময় উন্নয়ত ক্যারিয়ার কে পিছনে ফেলে নিজ এলাকায় ছুঠে আসেন। এবং তিনি দামুরহুদা উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন, এরপর উপজেলা যুবদলের সভাপতি হয়ে আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ সালে জনগণের রায়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে বৃহত্তর নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদের সফল জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর বিএনপির রাজনীতিতে উপজেলা সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এলাকায় শান্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। যে কারণে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি ভালো বলে এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়ে উঠে।
গত ১৮ মার্চ হটাত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি মনিরুজ্জামান মনিরকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দামুড়হুদা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান মনির চেয়ারম্যানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনেই রাজনীতি করে আসছি। আমি জ্ঞানত কোন অন্যায় বা দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করিনি। এখনো পর্যন্ত আমি জানিনা কোন তথ্যের কারণে বা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে মনিরের সমর্থকরা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। সমর্থকদের দাবি, মনিরুজ্জামান মনির দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও বৃহত্তর নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদের সফল জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থেকে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বর্তমান সময়ে তার মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে বহিষ্কার করা তৃণমূলের জন্য বড় ক্ষতি।
অনেক সমর্থক তাদের পোস্টে লিখেছেন, “দলের দুঃসময়ে যিনি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, আজ তাকেই অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হলো।” অনেকে আবার এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরেক সমর্থক লেখেন, মনির চেয়ারম্যান ১৯৮০ সাল থেকে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির রাজনীতি করে আসছে। তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক। তিনি দুঃসময়ে বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বহিষ্কারে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের কাছে মনির চেয়ারম্যানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি তার।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের নীতিমালা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের উদ্বেগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, মনিরের বহিষ্কারাদেশ যদি প্রত্যাহার করা না হয়, তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরণের বিভক্তির জন্ম দেয় কি না, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়…
রাহাদ সুমন,বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সোনাহার-সাকরাল গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সাত দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয়…