নতুন বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণের পর সরকারি দলের জনপ্রতিনিধিদের আচরণ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় তিনি মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন জনগণের সেবক হিসেবে তাঁদের চলন, বলন এবং প্রতিটি পদক্ষেপে মার্জিত ও সতর্ক থাকতে হবে।
কোনোভাবেই যেন ক্ষমতার দম্ভ বা অশোভন আচরণ সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
বেলা সোয়া ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্যের সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর নির্দেশনার তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যাঁর যে দাপ্তরিক দায়িত্ব, তার বাইরে গিয়ে কেউ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য না করেন। বিশেষ করে সংবেদনশীল জাতীয় ইস্যুতে সমন্বিত বক্তব্যের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সভার একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী চান না সরকারি দলের কেউ অতিকথন বা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলুক।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপির ‘গতি’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, “আমাদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে অনেকে অনেক সংশয় প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করতে পারি। এই কর্মতৎপর বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।”
তিনি সভায় আরও ঘোষণা করেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে সারা দেশে ‘খাল খনন’ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এছাড়া আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে শহর ও গ্রাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “তরুণদের অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হতে হবে। মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে কাজের গতি বাড়াতে হবে।
একই সাথে তিনি সড়কে চলাচলের সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও যদি ট্রাফিক আইন মানেন, তবে অন্য কারও তা অমান্য করার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির (ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা) ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এবং ব্যক্তিগত জীবনে কৃচ্ছ্রসাধনের বা মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।