বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল, মিরপুর কার্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহীন সুলতানের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদে চাকরি গ্রহণসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে অভিযানের প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সেটি প্রভাব খাটিয়ে পাল্টানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বিআরটিএ’র ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল, মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় টিম অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাহীন সুলতানের বক্তব্য গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয় থেকে তার নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনা করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগেই তা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বিআরটিএ’র এক বিতর্কিত কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেট্রো সার্কেলের উপপরিচালক রফিক—যিনি নিজেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত—এই প্রতিবেদনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুদকের প্রতিবেদনের ভাষা বদলানো কিংবা বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য তিনি তদবির চালাচ্ছেন।
আরও জানা গেছে, সম্প্রতি মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ঢাকা থেকে রাজশাহীতে বদলির আদেশও রহস্যজনকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। এ ঘটনাকে ঘিরেও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজের বদলি ঠেকাতে সক্ষম হওয়া এই কর্মকর্তাই এখন আবার দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
বিআরটিএ’র অভ্যন্তরীণ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শাহীন সুলতানের চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই দুদক তদন্তে নামে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক রফিকের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব বা তদবির আমলে নেওয়া হবে না। যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রশাসনিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে শুধু ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়ার বিষয়টিই নয়, বরং তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি নামে এক শিশুর মরদেহ…
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়…