বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে মূল কয়েকজন আসামির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মিল্টন মন্ডল, যিনি আগৈলঝাড়া থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত।
শনিবার সকালে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাকাল ইউনিয়নের বাকাল গ্রামের মৃত দেব প্রসাদের স্ত্রী ও মামলার বাদী সাবানা (অর্পা মজুমদার)।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল তার স্বামী দেব প্রসাদকে গুম করে হত্যা করা হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তাদের পরিবারের ওপর হামলা ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
সাবানা জানান, ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সকালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফিরোজ ভাট্রির নেতৃত্বে সাত থেকে আটজনের একটি দল তাদের ঘরে ঢুকে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় তিনি চিৎকার করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় তার ছেলে এলবার্ট কর্মকার বাদী হয়ে ২৬ ডিসেম্বর আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর জিআর–১৩২/২৫। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন এসআই মিল্টন মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মূল চার আসামির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেন। বাদ পড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফিরোজ ভাট্রি, ফারুক ভাট্রি, ফরিদ ভাট্রি ও সাইফুল ভাট্রি। এছাড়া চার্জশিট দেওয়ার ঘটনায় থানার আরও দুই কর্মকর্তা—এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নুর মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়।
বাদীর দাবি, মামলার মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়ায় তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোনো সময় আবারও হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ কারণে মামলার বাদী এলবার্ট কর্মকারের মা সাবানা (অর্পা মজুমদার) গত ৫ মার্চ ঢাকা পুলিশ প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির নম্বর ১০১ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাবানা (অর্পা মজুমদার)-এর মেয়ে এলিজাবেথ এবং তার ননদ নমিতা কর্মকারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী নারী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি মামলাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত এসআই মিল্টন মন্ডলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মিল্টন মন্ডল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মামলার বাদী এলবার্ট কর্মকারের দায়ের করা মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়…
রাহাদ সুমন,বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সোনাহার-সাকরাল গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সাত দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয়…