পবিত্র সম্পর্কের চাদরে ঢাকা সংসার যখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, তখন তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক নৃশংস দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো জামালপুর শহরে। নিজের ঘর, যেখানে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই শয়নকক্ষে প্রাণ দিতে হলো ৩৬ বছর বয়সী গৃহবধূ তাহমিনা আক্তারকে।
অভিযোগের আঙুল উঠেছে তাঁরই জীবনসঙ্গী, পেশায় আইনজীবী হোসাইন মো. তাইফুরের দিকে। কেবল হত্যাই নয়, অপরাধ ঢাকতে স্ত্রীর নিথর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো পৈশাচিক চেষ্টাও চালিয়েছেন অভিযুক্ত এই স্বামী।
শুক্রবার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় আইনজীবী তাইফুরের বাড়ি থেকে উচ্চস্বরে ঝগড়া আর আর্তচিৎকারের শব্দ ভেসে আসতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, তাইফুর ও তাহমিনার মধ্যে ঝগড়া বিবাদ নতুন কিছু ছিল না, তবে কালরাতের সেই চিৎকার ছিল অন্যদিনের তুলনায় অনেক বেশি আতঙ্কিত। রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই সব নিস্তব্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরেই প্রতিবেশীরা দেখতে পান তাইফুরের ঘরের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুনের শিখা দেখে স্থানীয়রা ছুটে এলেও ঘরের দরজা ভেতর থেকে শক্তভাবে আটকানো ছিল। সন্দেহ দানা বাঁধলে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে।
খবর পেয়ে জামালপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, একটি কক্ষে বিছানার ওপর তাহমিনার নিথর দেহ পড়ে আছে এবং তাতে আগুন জ্বলছে। অন্য একটি কক্ষে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত আইনজীবী তাইফুরকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী, তাহমিনাকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর ঘটনাকে অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেন তাইফুর, যার ফলে নিহতের শরীরের কিছু অংশ পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে।
নিহত তাহমিনা আক্তার জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে। ১৭ বছর আগে দড়িপাড়া এলাকার প্রয়াত নজরুল মাস্টারের ছেলে তাইফুরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এই দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ঘরে ১২ বছরের একটি ছেলে এবং ১০ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাইফুর আগে স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও গত কয়েক বছর ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। একজন আইনজীবী হিসেবে সামাজিক মর্যাদা থাকলেও ঘরের ভেতরে তিনি ছিলেন এক উগ্র ও সহিংস মানুষ। মাদকের টাকার জন্য এবং পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাহমিনার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত। গতকাল দুই সন্তান নানাবাড়িতে থাকায় ঘরে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ছিল না, যা তাইফুরকে এই নৃশংসতা চালানোর সুযোগ করে দেয়।
নিহতের মামা মনোয়ার ইসলাম জানান যে তাহমিনা অশান্তির ভয়ে বাবার বাড়িতেই থাকছিল এবং গতকালই তাকে বুঝিয়ে এই বাড়িতে আনা হয়েছিল। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক কলহ এবং সম্ভবত মাদকজনিত অস্থিরতা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত তাইফুরকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একজন শিক্ষিত ও আইন পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তির এমন পাশবিক আচরণ স্থানীয় সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি নামে এক শিশুর মরদেহ…
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…