করিৎকর্মা অফিসার কিশোরগঞ্জনিবাসী বরিশালের জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার হাতে সময় নেই চাকরির মেয়াদ আর মাত্র সাত মাস। কিন্তু এই অল্প সময়েই ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার এক বিশাল ‘টার্গেট’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআর) মোহছেন মিয়া।
অভিযোগ উঠেছে, অবসরে যাওয়ার আগেই এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি পাড়ি জমাবেন কানাডা বা আমেরিকার ‘বেগমপাড়া’য়, যেখানে ইতিমধ্যে তার সন্তানরা থিতু হয়েছেন। বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আমলাদের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা এখন ভোল পাল্টে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘বিএনপি নেতা’ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।
মোহছেন মিয়ার দুর্নীতির ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৫ সালে জেলা রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ময়মনসিংহে কর্মরত থাকাকালীন তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যে একক আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, নকল নবীশদের পদোন্নতির তালিকায় নাম তোলার আগেই তিনি জ্যেষ্ঠ নকল নবীশদের ডেকে ২০ লক্ষ টাকা করে ঘুষ দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সে সময় প্রধান সহকারী আলহাজ্ব মোঃ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘ঘুষ আদায় কমিটি’ গঠন করেছিলেন তিনি। এই কমিটি প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করত। পদোন্নতির রেট চার্ট ছিল নিম্নরূপ:
* টিসি মোহরার পদ: ৮,০০,০০০ টাকা।
* অফিস সহকারী পদ: ১৫,০০,০০০ টাকা।
* অন্যান্য নিয়োগ: ১০,০০,০০০ টাকা থেকে উর্ধ্বে।
বরিশালে যোগ দিয়েই ‘ঘুষের ট্যারিফ’ পুনর্নির্ধারণ
১৪ জুন ২০২৩ তারিখে বরিশালে যোগদানের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মোহছেন মিয়া ১০টি সাব-রেজিস্ট্রারকে তলব করেন। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগের নিয়ম চলবে না।
১. দলিল প্রতি কমিশন: আগে দলিল প্রতি ৩০০ টাকা নেওয়া হলেও মোহছেন মিয়া তা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দরকষাকষির পর তা ৭০০ টাকায় নির্ধারিত হয়।
২. নকল তোলার ফি: সাধারণ মানুষের জন্য নকল তোলার ফি ৭০০ টাকা থেকে এক লাফে ৫ গুণ বাড়িয়ে ৩৫০০ টাকা করেছেন তিনি।
৩. মাসিক কালেকশন: বাকেরগঞ্জ, সদর, উজিরপুরসহ ১০টি অফিস থেকে মাসে প্রায় ২৫ হাজার দলিল সম্পন্ন হয়। এখান থেকেই তার মাসিক আয় প্রায় ১.৫ থেকে ২ কোটি টাকা। যদিও এই টাকার একটি অংশ তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী ও ওপর মহলের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে ব্যয় করেন বলে প্রচার করেন।
কাজী ও ডিড রাইটারদের ওপর ‘মাসোহারা’
জেলায় কর্মরত নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীদের অবস্থা আরও করুণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাজী জানান, বছরে দুই কিস্তিতে (ষান্মাসিক) ১০ হাজার টাকা করে মোহছেন মিয়ার ব্যক্তিগত ড্রয়ারে জমা দিতে হয়। লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও চলছে লাখ লাখ টাকার গোপন লেনদেন।
বিলাসবহুল জীবন ও আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট
মোহছেন মিয়া প্রতি সপ্তাহে বিমানে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করেন। তার এই অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করা হয়েছে ঢাকার উত্তরায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়িতে। এছাড়া নরসিংদীতে তার শ্যালকের মাধ্যমে বড় ধরনের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং মালয়েশিয়ায় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ে তোলার শক্ত তথ্য পাওয়া গেছে।
অধরা মোহছেন মিয়া ও প্রশাসনের নিরবতা
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সচিবালয়ে অভিযোগের পাহাড় জমা হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তিতে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বদলি ও তদন্তের সময় তিনি বিপুল অর্থ খরচ করে মুখ বন্ধ করে দেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি তার অতীত অপকর্ম ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, বরং বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…
বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়…
রাহাদ সুমন,বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সোনাহার-সাকরাল গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সাত দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয়…